রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

Archives

কবি কিংবা মাংসাশী

এখানো কি আমি কবি নই? বরং এখন আমি ঢের বেশি কবি। ঢের বেশি অকর্মণ্য, ঢের বেশি প্রেমিক, প্রেমিকার ফোলা ঠোঁটে চুমু খেতে ঢের বেশি সাবলীল আমার ঠোঁট এখন আবৃত্তি করে আর্ত পংক্তিদের। স্তনের ঘাম-ভেজা আঙুলে কবিতার খাতা খুলি, পাতা বদলাই। আমার পংক্তিরা, যারা ওঙ্কার ছিলো মূক যুবকের বুকে, আজ রাত্রির মূঢ়তা ভেঙে শীৎকার হয়ে ওঠে,

আড়ষ্ট চুমুর ঠোঁট ও কতিপয় বিষন্ন চিবুক

আড়ষ্ট চুমুর ঠোঁটে সাঁতরে ফেরে বিষের কবিতা; পড়তে পারো? তোমার দৃষ্টির বাইরে… কাঁটা বুকে আলিঙ্গনের জ্বালা ধুয়ে দিতে আমার বৃষ্টিগুলো নেমে এলে, ছুঁতে পারো কি সে জলের নোনা? কান্নার বিলাসিতা পুরুষের নয়। পুরুষের একান্ত আঁধারে কিছুতেই জ্বোনাকী ওড়ে না, জানো? কেবল স্পর্শ দেখো না, স্পর্শের বাইরেও আরো কিছু বোধ থেকে যায়। আমাদের মতো।

যুদ্ধ দিনের ঘ্রাণে

তবু বেঁচে থাকি, তবু মেলে রাখি চোখ।বেহুঁশ হবার যে সৌখীনতা, সে আমার নয়।আমাদের নয়। বিলাসী কান্না, থামো, মেখো না গায়ে। এসো, এই বেলা কাঁচা-সোনা-সকালের ঘ্রাণবাজি রেখে জিতবোই নতুন ফাল্গুণেকিছু অশরীরী মেঘ, কিছু নতুন রঙন। হারবার কুলীনতা আমাদের নয়, আমাদের নয় কোন থেমে যাওয়া বয়েসের লোভ। আমাদের পায়ে বাঁধা নিদাঘ দুপুর। আমাদের চোখে খোলা সুনীল আকাশ।প্রেমে

রুদ্র স্মরণে

কিছু কবিতারা কুয়াশায় পথ হারালেওকিছু কিছু পংক্তির শেষেসূর্যের মতো একেকটি শব্দ বন্ধঅকৃপণ উষ্ণতা বিলাবে জানি। জানি, শিশিরে না ভিজেওকিছু কিছু ঘাসফুলেচুপিচুপি লাবণ্য জমে। কিছু ঝিনুকের বুকেক্ষত আর ব্যাথাগুলোনিরিবিলি মুক্তো বিকোয়। আমি ঝিনুক, ঘাসফুল আর বিচ্ছিন্ন কিছু পংক্তির শেষেজ্বলন্ত কোন শব্দবন্ধের কথা বলবো না।আমি বলবোনা এ সংঘাতকালে গুটিকয় রুদ্র জন্ম নিক।আজ প্রতটি জঠর জ্বলে যাক সৃষ্টির

ইচ্ছে

সেদিন রাতের মতন যদি ইচ্ছে হলেই তোমার কাছে যাওয়া যেতো! তোমার গালে খোঁপায়-চুলে, যদি যেতো,হাত ছোঁয়ানো, হাত বুলোনো ইচ্ছে হলেই…তোমায় ধরে বুকের ভেতর, কিংবা কাঁধের মিহি ঢালুয়নাক ডুবোনো, মুখ ডুবোনো- সন্ধ্যে-সকাল, দুপুরগুলোফিরতো যদি, ইচ্ছে মতন আমার কাছে, তোমার কাছে,ইচ্ছে হলেই…সেদিন বিকেল, মাতাল বেলায়অসুস্থতার আলতো ছুঁতোয়তোমার শরীর মুছিয়ে দেয়া,গালে তুলে খাইয়ে দেয়া,আড়াল পেলেই দুষ্টু করা,নরম চুমোয়..কিংবা

ভীরু

বুকে অশুভ কাঁপন রেখে শুভ তিথি, ক্ষণ গোণা… কি যে যন্ত্রণা! কি করে বোঝাই! রাতের গর্ভ থেকে, জানি জন্ম নেবে সকাল। তবু শংকা দিচ্ছে কাঁটা গায়ে। ভোর না ফুটতেই ঘুমিয়ে যাবার তীব্র অভ্যেস কিছুতেই ছাড়াতে পারি না। হাল ছেড়ে সেই কবে থেকে লেপটে আছি পাটাতনে। যদিও নিজেকে বলি, “ভেসে থাকা মানেই বেঁচে থাকা নয়”। বাতাসে

অভিমান

পেয়ে গেছো ট্রয়ের দখল। হারাবার আর কি আছে? তবু, অন্তত একটা গল্প থাক, যেখানে যুদ্ধের পরও একিলিস বাঁচবে আরো কিছু কাল। ভুলোনা, তুচ্ছ অভিমান গোড়ালীতে ছড়ালে বিষ, যে তোমায় ধরে রাখে, যে তোমায় চেয়েছিলো দিতে সচ্ছল সুখি অঘ্রাণ, তারও বেলা ডুবে যাবে পৌষের সাঁঝের মতন। আর, যদি বলো- একিলিস! আরো কোন যোদ্ধার সাধারণ নাম। থাক,

অসুখ

ইচ্ছের অসুখে মরে গেলে জীবনের পোকা,বোকা বোকা বেঁচে থাকা মানুষের ভীড়বাড়িয়ে কি লাভ! ভেবে প্রজাপতি ডানাখুলে রেখে, থেমে গেলো একরোখা কিশোরের চোখ।কিছু কি এ পৃথিবীর এলো-গেলো তাতে?? মার্বেল, পাথরের মতঅদ্ভুত স্তব্ধ চোখপেয়ালায় চামচের শব্দের মতো একঘেয়ে হয়ে গেলে চায়ের দোকানীলিকার বদলে দেবে, বিকিকিনিথামবে না, কোন কিছুতেই। শুধু, ইচ্ছের অসুখে মরে যাবে জীবনের পোকা।শুধু, বেড়ে যাবে

ক্ষতি নেই

জীবনের কোলাহলে দিকভুলহচ্ছে, হয়েছে, হবে, ক্ষতি কি?একটা জন্ম যদি কেটে যায়আফসোসে, হতাশায়, লজ্জায়,সংকোচ, দ্বিধা আর জড়-মনকাটাতেই যদি কাটে যৌবন?হেয়ালীতে, খেয়ালীতে ভাসবারঅবসরই নাই যদি পাই আর?হলে ব্যস্ত যন্ত্র, শুধু সফলতাকতটুকু দিতে পারে তৃপ্তি!জানতে চাই নি, জানা হবে না।কেবল দিনের শেষ বৃষ্টিগায়ে মেখে বাড়ি ফিরে এলে জ্বর,কাঁথা মুড়ি ভালোবাসা রাতভর,ফের, সকাল-সুর্য নিয়ে পেয়ালায়,নতুন যুদ্ধদিন শুরু হয়।আর একটু

চতুর

“যখন কেউ জানছে না আমি কি করছি,তখন আমি যা করছি, সেটাই আসল আমি।বাকিটা ভন্ডামি।” তাই খুব করে আড়ালে যেতে চেয়েছি।খুব করে শুন্য পকেটে ঘুরেটের পেতে চেয়েছি ক্ষুধা।শুধু কখনোই পারিনা পেরোতেসীমারেখা, চুড়ান্ত দেয়াল। সুযোগ, নয়তো সাহসের বড় অভাব আমার।চিরকালই, আমি তাইবড় সৎ, “খুবই ভালো” মানুষের দলে।