রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

Archives

প্রান্তিক মানুষের প্রতি

ঘর এসে কোনদিনো দাঁড়ায়না মানুষের পায়ে। যদি গৃহী, সুখি হতে বাসনা পোষো.. ভুলে যাও পথে পাওয়া মুদ্রার লোভ। ভুলে যাও- অরণ্য সুখ। আকাশের গায়ে, চোখ ফেলে কাটাবেই অভিযাত্রিক নাটুকে জীবন, ছেলে, সে ভাবনা ভোলো। হেঁটে ফেরো, নাড়ো প্রিয় পরিচিত দরজার কড়া। বুকে পুরে ছুঁয়ে দেখো, রোজকার অ-সুখের ঘ্রাণ। হয়তো হারাবে কিছু, তবু জেনো ঢের বেশি

অপমৃত্যুর আগে

হারিয়ে ফেলবো কবিতার ক্ষুধা যদি,এতো ছেঁড়া পাতা, খেরোখাতা জোড়া এতো আবেগের পংক্তিআমাকে না দিলে, আর কাকে দেবে অভিশাপ? বুক ভেঙে গেলে সুখ পেতে হাঁটা রোদ্দুর-পোড়া পথেকাঁদতে শিখিনি, ভিজতে শিখেছি উদোম বৃষ্টি জলে,কালো তামাশার অট্টহাসিরা বিদ্রূপও করে যদিচোখ টিপে ফের আড়ালে তুলেছি চোখের শুদ্ধ ব্যথা। তবু, কবিতা হারিয়ে গেলে…?জীবন না পেলে জীবনের তৃষা? আমার কবিতা-নারী?ঘুণপোকা চুপে

না মাংস, না মানুষ

বাঁধানো বাগান আঙিনা তো ভরাবেই জানি। বুকে বুনো সবুজ সুহাস বলো, কই থেকে পাবো? ঝর্নার বুক ছেনে তৃষ্ণার ঘর করে যে মাতাল, অবোধ পুরুষ, যন্ত্রের মিহি জলে আঁজলা ভরাবে তার! কি সাহসে ভাবো? যতো আনো মসৃণ ত্বক, পরিমিত মেদের প্রলেপ, ফর্সা জংঘা, নাভি, কাঁচা মাংসের ঘ্রাণ, যত আনো কচি যোনী, কোমরের ঢেউ, বুকে পালকের মত,

গল্পটা আমার না হোক

“হয়তো” “হতে পারে” “যদি হয়”- অর্থহীন অযাচিত প্রশ্নের কাঠামোরাএতোটা শক্তি রাখে!! মানুষের চেয়েবড় হবে মানুষের চোখ!! “মুহুর্ত” ম্লাণ করে দেবেছ’শো নিরারানব্বুই উজ্জ্বল প্রগলভ দিন!!মানতে পারি না। শরীরের বন্টন শেষে, ভাগাড়েই যদি যাবেমানুষের অচ্ছুত মন! খুব কি জরুরী ছিলো?জন্মাবধি, জন্মের নামে মৃত্যু মৃত্যু খেলা। সবকিছু শেষ হয়ে যেতে খুব করে শক্ত কিছু দরকার পড়ে না। সবকিছু

বিচ্ছিন্ত অনুভুতির খসড়া

ইচ্ছে মাত্রেই যারা বুক ভেঙে কাঁদতে পারে, তাদের বড় ঈর্ষে হয়।ইচ্ছে হলেই যারা পাজর খুলে বুক দেখাবার শক্তি রাখে, তাদের ভীষণ ঈর্ষে হয়। চোখের বাইরে রোদ্দুরে-পর্দা টাঙিয়ে যারা চোখের আড়ালে পোষে শ্রাবণের বিষন্ন বেলা,যারা বেঁচে থাকে যাবজ্জীবন হাসিমুখ-মুখোশের শাস্তি মাথায় করে, অনেক চিন্তার পর যাদের মনে হয়, “হ্যাঁ হ্যাঁ, এখানে এবার একটু না হাসলেই নয়!!”

পুরুষের মুচকি হাসি

কেউ জানবে না।কিচ্ছু বদলাবে না।এই শহর কেবল,মেলে ধরে শরীরের প্রত্যেক পরিচিত বাঁক,“ভুলে গেলি, এতোটা সহজে?”তীর্যক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেবে। আমিই বা ভিন্ন কি বলি! পুরুষের কান্নাগুলো,পেতে চাওয়া, প্রকাশ্য পথে!অতোটা সহজ; কবে কোনকালে ছিলো? যে পাথরে শ্যাওলা ধরে না, কে জানে, তার কেন থাকতে বারণকোন একান্ত আস্তরনে লুকোনো ঝর্না?

দীর্ঘশ্বাসের বেসাতি

এইখানে শেষ হয়ে গেছেদিকভুল প্রমত্তা নদী।মানুষের নাকউঁচু বাঁধেনাগরিক চাঙড়ের চাপ।সেই সব সন্ধ্যের মতোএশহরে আসবে না আরবকেয়া চিঠির খামে ফুল,সকাতর চোখের আদর। এ শহরে আসবে না সুখ।এ শহর ভাসবে না প্রেমে। হাতে ছুঁয়ে হাতের আঙুল,ভাসাবে না এই পথ কারোছেঁড়া দুল, চুমুর আবেশ। অসুস্থ মানসের ভীড়ে মরে গেলো! মরে গেছে, স্বাতী,বিকেলের গান-পাখি-ভুলদিশাহারা আহ্লাদী স্রোত।

চাকর কিংবা চাকুরে

স্বাদ নেই, সাধ নেই,  শুধু ক্ষুধা নিয়েকতটুকু বেঁচে থাকা যায়?মানুষ বাঁচে না, বাঁচেসারমেয়, গোয়ালে বলদ। ঘানিতে অবলা জীব, ক্ষুধা চেনে,চেনে মনিবের চাবুকের ঘা-দিনে দিনে  তা-ই হয়ে যাই।মানুষ আর পারি না হতে। স্বাদ-সাধ ধীরে মরে গেলেপড়ে থাকা ইতর ক্ষুধায়নির্লজ্জ্ব, নিজেকে সাজাই। <s>চাকর</s>  চাকুরে

দাঁড়াবার জায়গা নেই

কই যাবো? কোনখানে যাবো? যেখানেই রাখি পা, যেখানে দাঁড়াইযেখানেই হাঁটি, ছুটি, বসি পথে এসে, এই ছেনাল শহর বেহায়া গতর মেলে সামনে দাঁড়ায়।পরিচিত বেশ্যার মতো, অচকিতে বলে-“এই খানে দ্যাখ তোর কামড়ের দাগ”, “এইখানে ঠোঁটের আদর”।“এইখানে এই দ্যাখ, কতো স্মৃতি, চেনা ঘ্রাণ, বেসামাল নোখের আঁচড়।” মেলে ধরা গতরের গোপন আঘাত,প্রতিটা চুমুর দাগ, রাতারাতি খুব জ্বালা, বিষাক্ত ক্ষত

বিকার

তোমার ইদানিংকার হাসিমুখ ছবিগুলো খুব চোখে পড়ে।আমার হাসিমুখ পোর্ট্রেটগুলোর মতইতোমার নিঁখুত হাসি।ভাবি, তুমিও কি নিঁখুত হাসছো!হাসিটাই সবই! নাকি…পিছে তার কিছু স্মৃতিমেঘ করে আছে?আমার মতন… জানি, প্রশ্ন অবান্তর।আগ্রহ অনভিপ্রেত,অনধিকার। কথা ছিলো ভুলে যাবো,ভুলে গেছি, তবুতোমার শাড়ির রংথেকে গেছে চোখে। তাও জানতে ইচ্ছে করে…তুমিও কি ভুলে গেছো ঠিক?নাকি, ভুলে গেছোআমার মতন করে?আর কোথাও অযত্নে খুবরেখেছো লুকিয়েপায়েল পরিয়ে