রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

Archives

উৎসের থেকে দুরে

বহুদিন পড়িনা কিছুই।পরিচিত শব্দগুচ্ছ তাইফিরে ফিরে আসেদুর্বল কলমের শীষে। বহুদিন মাটিতে রাখিনি পা,মানুষের ভীড়ে, মানুষের ঘামে-ঘ্রাণে বহুদিনডুব দেয়া হয়ে ওঠে নাই।মানুষকে ভেবে ভেবে মানুষের থেকে তাইদুরে সরে যেতে যেতে যা-ই বলি, যা-ই বলা যাক,মানুষকে মানুষের মতভালোবাসা যায় না, বোকা। বহুদিন, শিশির মাখিনি চুলে, উজাড় সন্ধ্যেবেলা শান্ত ধানের ক্ষেতেখুজিনি আলের বাঁক,হারানো লাটিম।জ্যোছনা ক্লান্ত রাতেঝিঁঝি ডাকা বাশঝাড়েকান

বিবর্তন

শীত-রাত স্তব্ধতা ভেঙ্গে শিশিরের শব্দের মতো মৃদু মৃদু সুখে,আর্শি তে কুয়াশার ঘাম, আরবাড়ির আঙিনা জোড়াকাঁচপোকা, জ্বোনাকীর ঘ্রাণেডুবে থাকা রাত মেখে গায়,তেল-শেষ নিবন্ত কুপিরজৌলুস জ্বেলেআমাদের যেই যেই পুর্বপুরুষআমাদের জন্ম দিয়েছেন,আজ ধমনীর কোত্থাও, কোনখানেতাদের রক্তের অবশেষ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমাকে, আমাদের নিয়ে গেছে এতো দুরআমাদের থেকে, কে জানে কিসের দুষণ!বিবর্তনের, এ কেমন ধারা! আজ শীত-রাতে স্নানঘরেগরম

রাহু

-কিছু কিছু তারিখের ফিরে আসতে নেই।কিছু দিন, কিছু স্মৃতি.. মুছে দিতে হয়।ওথেলো না হও, তবু গলা টিপে মেরে ফ্যালো প্রিয়স্বচ্ছল অতীতের পাখি।ছিঁড়ে ফেলো, ডায়েরীতেগোপনে যত্নে লেখা লুকোনো অধ্যায়।কিছু বাছাই স্বপ্ন, যারা ঘ্রাণ  ফেলে গ্যাছে, মুছে ফ্যালো, অচ্ছুত শ্লেষ্মার মতো।অন্তত, ভালো থাকবে। -ওথেলোর শক্ত আঙ্গুল সবাই পায় না,প্রিয়তম। এইভাবে অনেকেই হেলাল হাফিজ হলো।ভালোবাসা যাকে খেলো,এইভাবে সবটুকু

বোধ

আবারো সাগরে যাবো, পাহাড় পেরোবো। অরণ্য-গাঢ় কালচে সবুজ গায়ে মেখে,বাচাল ঝর্ণা-জল কণ্ঠে ছোঁয়াবো। জলজ পাথরে লেগে যদিভেঙে চুরে মরে যাই কাঁচের মানুষ, তাই যাবো। তবু,সাঙ্গুর তীব্র স্রোতে আবারো ভাসিয়ে দেবো ভঙ্গুর শরীর। এই যে গলার ফাঁস, একবার খুলে ফেলি, তারপর দেখে নিস..রোজ রোজ মরে যেতে, বল, কার ভালো লাগে! বাঁচার মতন বেঁচে একবারে মরে যেতেশখ

বোবা

আমারও জল আছে চোখে, তার পিছে অভিমান, প্রেম।আমারো বুকের মধ্যেঅপেক্ষার খ্যাপা বনমোরগ কারও কারও ফিরতি স্বরের খোঁজে সারাবেলা ঠুকরে বেড়ায়। এই যে হাতের মুঠি, কোন কোন আঙুল ছোঁওয়ার তীব্র তৃষ্ণা ধরে, মরে যেতে চায়।সে তুমি বিশ্বাস করো বা না করো। আমার নিঃস্পৃহতা ভেঙেনাই যদি পড়ে  নিতে পারো,আমার সবাক প্রেম…জন্মবোবা আমারখুব দোষ হয়ে যাবে, না?

চারু

এখানে আমার বেলা, রাতভোর অবহেলাঅসহ্য জ্বালা যদি হতে চাও,সেপ্টিক ক্ষতে হয়ো আয়োডিন তুলো।পুরোনো দাদের ঘায়ে চাইনা তোমার চোখ,ভীষণ শুকনো দিন, ঠোঁটের ফাটলে ব্যথা,ভেসিলিন চুমু হবে, চারু?

পথ

যতোবার রাঙিয়েছো চোখ,যতোবার ভেবেছি পথেরএই বুঝি শেষ… শেষবার জেনে, যতোবাররেখেছি পায়ের পাতাস্নেহের ধুলায়,সেইই শেষ নয়।আরো কিছু পথ যেতে হবে,জেনেছি সবিস্ময়ে,দেখেছি কি প্রেম নিয়ে,ঘর ছেড়ে বেরোলেই, পথবুক পেতে থাকে। তুমি ফেরাতেই পারো, পথ তবু ফেরাতে জানে না।

যন্ত্রণা ও জীবন

কবে কোনকালেজননীকে যাতনা না দিয়েএসেছিলো শিশু?স্রষ্টাকে স্রষ্টা করেছে কে?প্রত্যেক সৃষ্টির বুকেকে দিলো জীবনবায়ু?যন্ত্রণা,সৃষ্টির পূর্বপুরুষ,যখনই বলেছে কথা, কবিতা জন্ম নিলো,সুর এলো,মৃত্যুর মত সাদা ক্যানভাসেমূর্ত হলো রঙের উদ্ভাস।আমার কলম ধরে, যারা এসেছিলো, তারাওআর কেউ নয়, আমার জীবনভরবেঁচে থাকা যন্ত্রণা ছিলো। যন্ত্রণা তীব্র হলে,আরো তীব্র হলে, আরো তীব্র,কিংবা তারো খুব খুব বেশী,যতদূর যায়নি ভাবা,আমি বোবা হয়ে যাই। আমার

কিছুটাতো চাই

কিছুটাতো  চাই অবেলার কালে বৃষ্টির ছাঁট।কিছুটাতো  চাই নিদাঘ দুপুর, উজ্জ্বল রোদ।চোখ ধেঁধে যাক, ঝাপসা দৃষ্টি অনেক পোড়ালো,এবার না হয়, জ্বলা চোখে জ্বালা বিলোবার কিছুআদিম কিংবা উগ্র বাসনা বুকে পুষলাম।এবার না হয় রোদপোড়া চোখে কিছু বৃষ্টির ,হোক না মিথ্যে, তবু মিঠে জলকাঙালের মত  মাখলাম, আর মাখলাম সুখ।কাঙালের মতো…

বিদ্রূপ – ১

  শুনুন! এই যে! হ্যাঁ আপনি, আপনিই__এভাবে ছুটছেন যে! পালাচ্ছেন নাকি!দু:খিত! দু:খিত! আপনারা পালাবেন কেন?হ্যাঁ, তাই তো! আপনাদের কিসের ভয়!ঐশ্বর্য আর ক্ষমতার শিবলিঙ্গ চুষতে চুষতে আপনারা পৃথিবী দ্যাখেন!লজ্জা! আছে নাকি আপনাদের!ভেবে দেখুন তো__সেই সব নষ্টা মুহুর্ত গুলো, যারা মিথ্যের কাছে শরীর বেঁচেছে,আর সত্যরা- বিকিয়ে গেছে হুড়মুড় ভেঙ্গে পড়া আবেগের পায়ে।মনে পড়ে? নিপুণ তামাশার খোরাকী যোগাতেহারিয়ে