রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

Archives

আমার হবে না

আমার হবে না আর, আমার হবে না কিছু, আর কিছুতেই।ভেঙ্গে গেছে ভুল সব, বুঝেছি সঠিকঘোলাটে কুয়াশা সবকেটে গেছে, তারপরদেখেছি আলোতে ফিরে, আঁধি আমাতেইআমার হবে না আর, হবে না কিছুই আর, কোন কিছুতেই। আমি রোদেতে সুবাস পাই, বৃষ্টিকে নারী মানিসর্ষের ক্ষেতে দেখি উজ্বালা আগুন।আমি রাত্রির প্রেমে কাঁদি, তারাতে বিলাই চুমুআরকে মজেনি শিরা-ধমনীর খুন। আমি জ্বোনাকী জন্ম

বিপ্রতীপ

আর ক’টা দিন, হারিয়ে যাবো, পাজর ভাঙ্গামিথ্যেগুলোর জিভের লালা চোখের জলেধুইয়ে দিয়ে, আর ক’টা দিন- উড়াল দেবো,মধ্যদুপুর, আকাশ জ্বালা রোদের আঁচেপুড়িয়ে আপন তিমিরপায়ী বিসংবাদীডানার পালক, তুচ্ছ ব্যথার ঠুনকো শোকেরআঘাত রাশির মোহনবাঁশি বাজিয়ে দেখিস,তোর দু’চোখে তীব্র সুখের আসহ্য পাপছাপিয়ে আমার বিষম ব্যথার অশ্রুগুলি-কাল সকালেই আবার নতুন সূর্য হবে।আবার আমি নতুন ভোরের সূর্য হবো। আবার আমি নতুন

সরল

এভাবেই ব্যাথা গুনেঅভিমান বুনে বুনেবুকেতে পুষতে মানাবেওয়ারিশ ঘৃনা রবে? দীপহীনা পিলসুজেমুঠোতে শূন্য ভাজেবিধে থাকা স্মৃতিবিষঅনভিপ্রায় হবে? হঠাৎ ঝড়ের চুমু এঁকে গেলে ফুলকি; নিষিদ্ধ অধরে..আবেগী বারুদ ছুঁ’লে নিবেদন ফুলকি; কামুকিনী জঠরে..ভুল কি! শোধ বা প্রবোধ নয়! প্রতারক আঙ্গুলেরনোখ টেনে উপড়াতেসাঁড়াশি চুমুর এইবিনম্র ব্যবহার.. -পাবে না কোথাও আর।।

মা’কে যেন আমার মৃত্যু দেখতে না হয়

সেদিন কি বার ছিলো মনে নেই। সকালে সারোয়ার চলে গেলো। আমি রওনা হলাম ধানমণ্ডি। উদ্দেশ্য খানিক আড্ডাবাজি করবো রবীন্দ্র সরোবরে, হ্যাপি আর্কেড থেকে টেলিটকের হারানো গোল্ডেন(!) সিমটা তুলবো এবং সবচে জরুরী যেটা, কেনার এক সপ্তাহের মাথায় জ্বলে যাওয়া হার্ডডিস্কটার কোন উপায় করার জন্যে এলিফ্যান্টরোডে দৌড়ঝাপ। লেকে পৌছে প্রায় ঘন্টা দুই ঝিমুলাম, আরাফের(আমার ঘনিষ্ঠতম বন্ধুদের একজন)

পাখা

যাদের থাকবার কথা ছিলোখুব কাছের সেই উসখুস মানুষেরাআহা! আজ উঠবার বাহানা খুঁজেকপাল ঘামিয়ে ফেলছে।যাদের হাতে ধরে, পায়ে পা রেখেহাঁটতে শিখিয়েছি, আজ চোখ ভরেতাদের চঞ্চলতা দেখি।ছুটে ছুটে কই চলে যায়, ফের ফিরে আসে।চাইলেই চলে যেতে পারে না এখনো।অভিমান, হয়তো ওদেরও আছে।আমার যেমন।শুধু আফসোস,সংকোচে মরে গেলো মৃত্যুকে ভেংচির স্পর্ধা।

পোকা

কিভাবে বাঁচতে হয়, আমি শিখে গেছি, এমনটা নয়___বরং, নিয়ম করে, রোজ এইভাবেবাঁচতে বাঁচতে, বেঁচে থাকাটাঅভ্যেসে দাঁড়িয়ে গেছে।রোজ তাই, “এইভাবে বাঁচা যায়!” বলতে বলতেদেখছো না, কেমন দিব্যি বেঁচে আছি। কে জানি বলেছিলো, “বেঁচে থাকাটাই সব নয়।”ওই যে কার্ণিশের কাক, এই ঝিমুনো কুকুর, পাশের বাসায় তরকারী এঁটো করেরোজ দুপুরে পালিয়ে যায় যে বিড়ালটা___ওরাও কি বেঁচে নেই?তা’বলে এই

আড়ষ্ট চুমুর ঠোঁট ও কতিপয় বিষণ্ণ চিবুক

আড়ষ্ট চুমুর ঠোঁটে সাঁতরে ফেরে বিষের কবিতা; পড়তে পারো? তোমার দৃষ্টির বাইরে… কাঁটা বুকে আলিঙ্গনের জ্বালা ধুয়ে দিতে আমার বৃষ্টিগুলো নেমে এলে, ছুঁতে পারো কি সে জলের নোনা? কান্নার বিলাসিতা পুরুষের নয়। পুরুষের একান্ত আঁধারে কিছুতেই জ্বোনাকী ওড়ে না, জানো? কেবল স্পর্শ দেখো না, স্পর্শের বাইরেও আরো কিছু বোধ থেকে যায়। আমাদের মতো।

ইশতেহার

তাকে বলে দাও, ঝড়ে-ঝঞ্ঝায়জানো উল্লাস বুকে বাঁচতে,জানো বাঁচাতে  ও প্রয়োজনেমহা-প্রলয় নাচনও নাচতে।বলে দাও, হলে প্রয়োজনভেঙে চুরমার করে বিশ্বমনে যত্নে রেখেছো যার মন,তারে দ্বিধা-ভারে করে নিঃস্ব,তুমি আবারো বাঁধবে সুখী ঘর,তুমি আবারো হাসবে গ্লানিহীন,জেনো, ভুলগুলি ছিলো শাপে বর,তুমি শুধবেই তার স্মৃতি ঋণ।নয় বিষাদ অথবা কান্নায়,নয় বিরহ কিংবা বীথিতে,ভুল শুধরে নেবার বাহানায়চুমু আঁকবে নতুন সিঁথিতে।তুমি রাখবে নতুন হাতে

প্রলোভন

স্বজনী রজনী ভর,  মনে ব্যাথা বুকে ঝড়, জ্বরে পোড়া তনু গায়ে… কাছে আসো সব তাপ শুষে নেবো, হোক পাপ চুমু খাবো নাঙা পায়ে। চুমু রাঙা নাঙা বুক মেলে দাও, নাও সুখ জলে জ্বলে যাক মরু। বৃন্ত নাভিতে নোখ বুজে কেন আছো চোখ, উরু সন্ধির সরু? মেলো কটি, ফেলো ছল ত্রিভুজ উপচে জল চল তুলি,  ভিজি

ক্রান্তি

  যারা মরে গেছে, বড় ভয়ে আছে তারা যারা বেঁচে আছে, বেঁচে থাকা মানুষেরা তারা আজ সার সার মৃতদেহ স্রেফ! মড়ক ও মারীর মহাযজ্ঞের বেলা আজ শিকারীর চোখে চোখ রেখেছে সন্ত্রস্ত শিকার.. ওদিকে, জনতা ও জীবনের নামে গার্গল করছে দুরনিয়ন্ত্রিত বুদ্ধিজীবি ক্লাসরুমে লোল ফেলছে রাজনৈতিক শিকারী কুকুর থিতানো রাত্রি, ঘুমঘুম পিচ- বিষিয়েছে নেশার্দ্র নেকড়ের পেচ্ছাপ