রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

Archives

মানুষ বলেই হারতে পারি না

তবু বেঁচে থাকি। আসমান ভাঙ্গা কান্নার মুখে  তুলে ধরি ফুল, ভুল নয়। পরাজয়, আর যার হোক,  জানি পরাজয়, মানুষের নয়,  আমি তো মানুষ। আঘাতে, নুইতে, ভাঙ্গতে, গুড়োতে ঢের পারি, তবু  ঘুরে দাঁড়াবার স্পর্ধা আমার এতটা টলে না। ব্যস্ত সড়কে জল মুছে ফেলে অট্টহেসেছি কেউ না থাকুক, ল্যাম্পপোস্ট ছিলো,  রিকশার হর্ণ, ভিক্ষুক হাত, বলে গেলো, আর

মধ্যরাত ডাকাত হতে দ্যায় নি

মধ্যরাত ডাকাত হতে দ্যায় নি।  নির্বাসনে আমাদের চুম্বনঘন সকালের স্মৃতি।  এখানে তোমার স্পর্শ, এই বুকে, ঠিক কতটা প্রয়োজন.. কে বুঝবে আর! ভালোবাসা, কৃষকের জাত। সর্বদু:খগ্রাসী  ভালোবাসা আমাকে দিও, আমাকে দিও, দৃষ্টিডোবা অন্ধকারে  আলোকের স্পন্দন। ভালোবাসা আমাকে দিও।  প্রদীপ ফুরিয়ে গেলে,  জানোতো, কারো কারো আর কেউ থাকে না। মরুজল নয়, ভালোবাসা, তুমি “ভালোবাসা” হয়ো। তোমাকেই প্রয়োজন যে…

প্রতি-নিয়তি

যতবার আমাকে ভাঙ্গবে আমাকে বাধ্য করবে হেরে যেতে আমার পোড়া অস্থিভস্ম  যতবার উড়িয়ে দেবে জীবনের পরাজিত উপত্যকায়… আমি ফিরে আসবো। আশ্চর্য আগুনপাখি জীবনের উদ্ধত অহমে আমি আমাকে সাজাই। আমার আহত চোখে পরাজয় খুঁজে পেতে  যত উল্লাস কর,  যতটা নিপুণ হাতেই আমার নিয়তি লেখো, ভুলে যাও, গল্পের শেষে আমিই নিয়তি হয়ে উঠি, বিচ্ছিরি অভ্যেস আমার। নিয়তি,

হিসেব

ঈশ্বরকে পাল্লায় তুলে সের দরে ছেড়ে দাও ভাঙ্গারী বাজারে। ভুলেও ভাবো না, গায়ে কি নির্বিকারে জড়াচ্ছো নর্দমার গন্ধ.. মানুষের খল প্রভু, আচকান গায়, ভগবান-আল্লাহ-খোদা সবাইকে তুলে দাও যাত্রার প্যান্ডেলে। ভুলে যাও, মানুষেরও দিন ফেরে কোন কোন দিন, ভুলে যাও মানুষের মুখে এখনো কিছুটা আছে ঘেন্নার থু… দ্যাখোনি ভাগাড়ে মাছি ঘিরে থাকে শুয়োরের হাড়.. শেয়ালীরা জিভ

আচ্ছা, ঘুমিয়ে যাও তবে

আচ্ছা, ঘুমিয়ে যাও তবে। ভেবোনা, আমার জন্যে ঢের রাত্রি এখনো বিছানায়। হা হা, আমি আছি, ভালো আছি, থাকি। একটুও বাঁধছেনা দেখো, আরে, এভাবেই খোলা-তরবারি-ব্যথা ফের গিলে ফেলে অশ্লীল অট্টহাসবো, তুমি নিশ্চিন্তে চলে যাও। রাত্রির ঢলো ঢলো কালো অন্ধকার স্তন মুখে পুড়ে মরে যাবো, তবু বলবোনা- প্রেম দাও! প্রেম দাও, প্রিয়তমা! আঁধারের অসহ স্তব্ধতা-যোনী, আমাকে গিলে

কবি কিংবা মাংসাশী

এখানো কি আমি কবি নই? বরং এখন আমি ঢের বেশি কবি। ঢের বেশি অকর্মণ্য, ঢের বেশি প্রেমিক, প্রেমিকার ফোলা ঠোঁটে চুমু খেতে ঢের বেশি সাবলীল আমার ঠোঁট এখন আবৃত্তি করে আর্ত পংক্তিদের। স্তনের ঘাম-ভেজা আঙুলে কবিতার খাতা খুলি, পাতা বদলাই। আমার পংক্তিরা, যারা ওঙ্কার ছিলো মূক যুবকের বুকে, আজ রাত্রির মূঢ়তা ভেঙে শীৎকার হয়ে ওঠে,

কেন কাঁদো, আহত পুরুষ!

কেন কাঁদো, আহত পুরুষ! মৃত্যুরে গৌরব মেনে তবেই না অস্ত্রে আঙ্গুল  রেখেছিলে, বোকা? ক্ষরণের এতো যদি ভয়! আঘাতে, এতোই দ্বিধা! বুক পেতে দেবার শপথ, নিলে কেন.. বেপথ, বেভুল? প্রহরীর অভয় চোখে করছো আড়াল যদি কাপুরুষ, পিছুপা মন.. কৈ যাবে, হঠাৎ আগুন  জ্বেলে দিলে শত্রু কামান? আচানক ট্রয়ের ঘোড়া খুলে দ্যায় দুর্গ-দুয়ার। বেমানান আনাড়ি হাতে নিতে

হয়তো পুড়েছি বলে

হয়তো পুড়েছি বলেকাঞ্চন হৃদয় আজআঁকতে শিখেছে প্রিয়জীবনের কাঁচা-রঙ ছবি।ভাঙ্গনের ব্যাথা চেপেরূঢ় পিচ্ছিল দিনেআগলাতে শিখেছেপ্রিয়তম মানুষীর হাত।অনেক ক্ষতের পরে,এ হৃদয়, শিখেছেঅসহ ঈর্ষা হতেপেছনের নিন্দুক চোখে।বহু অবেলার পর,অবশেষে, এ হৃদয়যূথ অংক-অভিধা ভুলেতোমাকেভালোবাসতে শিখেছে।

অনাঘ্রাতা

কথা ছিলো ভুলে যাবো, তবুতোমার শাড়ির রঙলেগে থাকে চোখে।তুলে আনা চুল,বা-চোখের পাপড়িঅথবা গোলাপ,গোলাপের কাঁটা,চাইলেই ফেলে দেয়া যায় না পাগল.. অথচ, কি অদ্ভুত, দ্যাখো-ফিরতি বেলীর মালাকেমন চুকিয়ে দিলোপায়েলের দাম.. প্রতি-পুরুষের প্রতিদেবতারও ঈর্ষা হয়,কি করে বোঝনা তুমি!।তবু জানাতে পারিনি,দমবন্ধ দামী অভিমানসস্তা মদের গ্লাসেঢালবার ব্যথা। হয়তো পাওনি টেরকখন তোমারই ভুলেতোমাকেই হারিয়েছিপিঠব্যাগে রয়ে যাওয়ানমস্য প্রেমে কেনাবকুলের ঘ্রাণের মতন।

ক্ষুধা

মাঝে মধ্যেই ভীষণ ক্ষিধেয় ইচ্ছে করে লংকা লবণ চটকে মাখা ভাতের মতন কচলে ডলে চিবিয়ে চেটে তোমার শরীর স্বাদ মিটিয়ে খাবোই, তবু সাধ মেটে না। শরীর দিয়ে শরীর ছুঁতেই ভীষণ আগুন শরীর পোড়ায় শরীর জুড়ে ভীষণ জ্বালা, ভীষণ ক্ষিধেয় স্বাদ মিটিয়ে তোমায় খাবো, তোমার যোনী উপচে পড়া রসের ঝাঁঝে, তীব্র আদর, লোভী গোপন জিভ জুড়োবো,