রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

Archives

আদর

তুমি ক্ষুধা রাখো তোয়ালের ভাঁজে, গিঁটখুলে দিতে বিছানায় নেমে আসে চাঁদ।স্নানভোর রাতগুলো ভিজে ওঠে ঘামেপেলব নাভিতে কাঁপে রতি-আহ্লাদ। তুমি সাপ রাখো শরীরের বাঁকেছেড়ে দিতে বিছানায় অরণ্য সুখফনা তোলো, ঠোঁটে বিষ, ঝিম ঝিম চুমোবুকের ভেতরে কাঁপে আরো কারো বুক। নরক জ্যোৎস্না পোষো উরু আস্তিনেমেলে দিতে ডুবে যাই, স্নিগ্ধ অনলপোড়া গায় মাখি যেই তোমার শরীরসুখের শিশির ঝরে,

গোঁয়ার

পথের ধুলোর সাথে যার প্রগাঢ় প্রেমবাঁকা নদী দিতো যারে সকাম অ-সুখ।শহুরে অন্ধকার, যারে বাঁধে অনিবার,কুয়াশায়, মেঘে ঋণ, আজন্ম বোনা যার,পাহাড় ও ঝর্ণা জলে, সাগরের কল্লোলেযে পায় নিজেরে খুঁজে,কেমন বাজারী এলে, মুদ্রায় দেবে তার হেয়ালীর দাম! বৃত্তি, অন্ন ও বিত্তের সুদ কষে, কার পায়ে বেড়ি বাঁধো!বোকা জমাদার! ******** প্রভু……! সংসার, নেই তার।সংসারী, হবে না সে কভু।

আমার বাবা

সকাল বেলা অফিসে যাবার সময় বাবার নিয়ম ছিলো মা’কে “মনু, আমি অফিসে যাই” বলে বের হওয়া। প্রত্যেকটা দিন বাবার ইয়াব্বড় সু তে আমার ছোট্ট পা দু’টো গলিয়ে একটা কিছু বগলদাবা করে আমিও হাঁকতাম, “মনু, আমি অপিতে দাই” মনে পড়ে, কোন এক আংকেল বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ছেলে তো বড় হচ্ছে, বাবা কেন জমি কেনা বা বাড়ি

প্রত্যুত্তর

জীবনের ত্বকে ধুলোর মতন হতাশাঝেড়ে ফেলি; ঝরে উদ্বাস্তুর সাধএত রাত, তবু রাতের তারারা জাগাফের ঝাঁকি দেয় দুর্বল ভাঙ্গা কাঁধ। ঝড়ে যাওয়া কুঁড়ি, পাপড়ির বৃষ্টিতেস্বপ্নগুলোর নীরব বৃন্তচ্যুতি,ঠিকরায় তবু আধপোড়া দৃষ্টিতেফিরে আসবার তীব্র প্রতিশ্রুতি। আসমান ভরা টের পাই অবসাদপ্রতিকূলতার নিলাজ আস্ফালনপোড়াও নিয়তি, পুড়ে যাক যত খাঁদআমি হারি, তবু হেরেও হারে না মন। জানি জানি আজ চৈত্র শেষের

নষ্ট জোয়ার

একে একে অনেক আঘাতপাজরে এনেছে ফুলকি,বুকভরা বারুদে এখনবিস্ফোরণের আমেজ।আজ আর কোন স্বপ্ন নেই,স্বপ্নে শুধু..নষ্ট হবার অভিলাষ। বিন্দু বিন্দু করে ক্ষোভ আজঅদৃশ্য উত্তাল সমুদ্র,আজ- মৃত্যুন্মুখ প্রতিটা লোমকূপ,আত্মঘাতী প্রতিটা স্নায়ু,প্রতিশোধস্পৃহায় উন্মুখসমস্ত সত্তা। বাঁধ ভাঙ্গে গেছে- শুধু হাতে,আমি কিভাবে রুখবোজোয়ারের জল।

শেষ চিঠি

মন নিংড়ে মনের কথামনের গভীরে…যা ছিল সব ভাসিয়ে দিলেমআকাশ গাঙের তারার স্রোতেতারার আখরে…আলোর মিছিলে… আভাস ছাড়াই হঠাত্ কোন রাতে-তন্দ্রাভেজা তোমার চোখের ভীরু পাতার প’রে,উদাস চাঁদের ফিনকি দেয়া জোত্স্না যদি ঝরে,জানলা চু’য়ে ফোঁটায় ফোঁটায় নিটোল অন্ধকারে,লজ্জা ভুলে জোনাকীরা নীরব অভিসারে,আঁকলে চুমু গালের ধারে, কানের লতি বেয়ে-অভিমানে ঘুম ভেঙে যায়; হঠাত্ যদি মেয়ে…হঠাত্ মধ্যরাতে… ইচ্ছে যদি হয়-আস্তে

ভুল তারা

মৃত আত্মা আর মৃতভূককাকের নগরে,ধোঁয়া আর ধুলোর অবয়বেযারা ফুল হয়ে ফোটে,ভুল তারা নয়। আবেগের অশ্বারোহীরা,যে দুর্গম মরুতেখুঁজে ফেরে মরুদ্যান,যে স্বপ্নচারীর দল,তপ্ত ধুলোর তলে, জন্ম দিতে চায়শেফালী, সেজুঁতি, যুথী,ভুল তারা নয়। আমাদের আত্মার ক্লেদহয়তো কখন ভুলেফুটিয়ে ফেলেছেদু’একটা পদ্ম শালুক…না, ভুল তারা নয়। পচন আর গাজনের সিস্টেমেআমরা প্রেতাত্মারাদু’চারটে আত্মাওয়ালার বিদ্রোহকখনোই ভালো চোখে দেখি না,পুতে ফেলি, গভীরে, অনেক

ভ্রান্তিবিলাস

আজ মনে হয়যা ভেবেছিযা লিখেছিযা বলেছিসব… ভ্রান্ত-উদাস-মিথ্যে ছিলো..মরিচীকার মরচে ছিলো..অবুঝ বোকার কাব্য ছিলো..আবর্জনার ভাগাড় ছিলো সব…. আজ মনে হয়..নদীর পাড়ে ধূলির ‘পরে;বালিয়াড়ির বালির ‘পরে;জীবনবিহীন শুভ্র চরে;ফেলে আসা পায়ের ছাপেরঅন্ধদিনের জীবাশ্মরা-মেকি-নিথর-অবস ছিলো..অমবস্যার কান্না ছিলো..পথ হারানোর ক্লান্তি ছিলো..ক্লান্ত শ্বাসের ভ্রান্তি ছিলো..তুচ্ছ কীটের পুচ্ছ ছিলো সব… কিংবা হঠাৎ রঙ্গশালায়প্রথম মাতাল; মদের নেশায়,প্রথম পাওয়া মুক্ত ডানারস্বেচ্ছাচারী অহমিকারআহম্মকীই হয়তো ছিলো,অভিজ্ঞ

খেদ

কার কি; আমি হারিয়ে গেলে কার কি; আমি নিখোঁজ র‘লে এত্তো বিশাল আকাশটাতে; নাটাই ছেঁড়া ঘুড়ি মেঘের সাথে পাল্লা দিয়ে ইচ্ছেমতন উড়ি.. কার কি; হঠাৎ হোঁচট খেলে ইচ্ছে করে পথ হারালে, নিংড়ে বিষাদ অন্ধকারের কার কি; যদি স্বপ্নভাঙ্গা টুকরোগুলো জুড়ি… কার কি যদি; মেঘের সাথে পাল্লা দিয়ে উড়ি… আজ,কোলাহলের তীব্র স্রোতে রাতের মতন স্তব্ধ হলে

অহম

খুব বেশি একটা বেশি “ভালো”বাসতে পারিনি তোমাকে।চেষ্টা-চরিত করলে-আরো কিছু বেশি “ভালো”বাসা যেতে পারতো হয়তো…আমি পারিনি… তবু, দুঃসাহস, স্পর্ধা বা অহমিকাযাই বলো; আপত্তি নেই,রয়ে গেছে এখনো আমার…বুকে হাত রেখে এখনো বলতে পারি-এর চেয়ে বেশি ভালোকে কাকে বেসেছে কবে আর…??