রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

Archives

সহ্যের অতীত কিছু নেই

দুর্বিষহ বলে কিছু নেই। একদিন সব কিছু স’য়ে যায়।সবচে’ বিভৎস যেই দিন,একদিন সেওগল্পের মত, রূপকথা, রূপকের মতোফিরে আসে রোজকারপ্রাসঙ্গিক উদাহরণে। জীবন জানতে কোন বোধীবৃক্ষের প্রয়োজন নেই। জীবনের হাত ধরে অন্ধকারে ঘুরে এসো,তুমুল কিছু রাত্রিতে যুদ্ধ-ফেরত হও,সকালের আয়নায় নিজেকে দ্যাখো। এবার বলো-অসহ; দুর্বিষহ কি? আদতেই কিছু?বলো-এইতো জীবন,রাত-গভীরের ফুল।

প্রাক বিবাহ অনুভুতি লিমিটেড

আমার বিয়ে।পাত্রী দেখা চলছে।বিপণীর ক্যাটালগ যেমন, ফর্দ ভর্তি মেয়েআমাকে দেখানো হচ্ছে।আমিও দেখছি।আন্দাজ করছি।বুকের বাঁধুনি, কোমরের বাঁক, নিতম্বের পেলবতা।তলপেটে কতটুকু মেদ, বিছানায় চলবে কেমন!আমাকে কি চুষে দেবে, না চুষতে দেবে! এই সব।দেখছি, ভাবছি, কাকে কতটুকু চোদা যায়, চুদতে ইচ্ছে হয়।   আমাকে বিয়ে দেবে ওরা। রাতভর চোদাবার অশ্লীল লাইসেন্স,  সাথে ফ্রি একটা শরীর, বেছে নাও ইচ্ছে

বেঁচে ওঠ শুদ্ধপ্রাণ

কৈ সব সৃষ্টিনাশা সর্বনাশী পাগলা ক্ষ্যাপাকোটরে আগুন যাদের, পাজরায় বারুদ চাপা..কৈ তোরা; পোষ না মানা বন্য আদিম সর্বগ্রাসী?হাস না হাবড়া বুড়োর ঘুম ভাঙ্গা সেই শকুন হাসিজ্বালা, আয়, আগুন জ্বালা,যদি হয় আদ্দ্যিকালের পাঠশালা এ…ধমনী, শিরায়-শিরায়.. ডাকে বানগোত্তা খাওয়া খুনের ধারায়, অসংকোচে..পরিণাম হয় নি ভালো, কোন কালেও, দে বুঝিয়েএই শেকল ছেঁড়া কব্জিতে ফের শেকল বাঁধার…..চেতনার বদ্ধ কপাট

প্রেম

ভয় হয়, ক্লান্তি যে কোন দিনছুঁয়ে দিলে চোখ,ভেঙ্গে যাবে বাঁধ।কিছুটা সুযোগ, কিছু সঙ্ঘাত, আমাদেরও হোক..আমাদেরও কিছু থাক, ভাঙ্গবার সাধ।প্রিয়তম, অশেষ দুর্দিনেও ভেঙ্গে যেতে নেই।কে কাকে কতোখানি ধরে রাখি,এসো দেখি তার প্রতিযোগ।এসো রাখি হাতে হাত, ঠোঁটে চাপি ঠোঁট।আস্থায় কাদা লেপে আহত না হোক আরহৃদয়ের শাদা, বুকেকাঁচা সবুজাভ মন।আমাদের চোখে চেয়ে, প্রিয়তম,মানুষের চোখে চোখে অমরতা নিকঈর্ষার জমাট

তৃষ্ণা

কথা ছিলো, পৃথিবীর উজ্জ্বলতম দিনগুলো ধরে হাতে করে আঙ্গুলে আদরে সাজাবো জীবন। কথা ছিলো, জামার পকেটে ঝুনুঝুনু বাজবে রূপালী রোদ,পুরু কাগজের বাঁকা আহ্লাদী অক্ষর ঘোষণা করবে বিত্ত ও সম্মান। কথা ছিলো, ছুঁয়ে দেবো অবহেলা ভরেআর যাবতীয় কয়লা, পিতলসব সোনা হয়ে যাবে। কোত্থেকে জীবনের আয়েসী নেশাআচানক বেঁধে দিলো কিসের ঘুঙুরআমার অপটু পায়!তাল নেই, লয় নেই, কেবলই

লজ্জ্বা

আমরা ভুলে গেছিআমাদের পায়ের নিচে জমাট রক্তের কথাআমরা ভুলে গেছিআমাদের পথে-বাঁকে-উঠোনে-ডোবায়ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকামানুষের পোকা ধরা হাড়। আমাদের ঘুনে ধরা স্মৃতি,আমাদের নুব্জ্য বিবেক,আমাদের বেহায়া জিভ, আত্মভুক ক্ষুধা,আমাদের পায়ে পায়ে বেঁধেছে শেকল,শেকড়চ্যুত মানুষের গ্লাণিআমাদের বোধহীন বুকে… আমরা থালায় তুলি মানুষের খুনমাখা ভাত..আমরা ঠোকর খাই মানুষের পোকা ধরা হাড়ে… আমাদের ঠোঁটে তবু লেগে থাকে ইলাস্টিক হাসিবেশরম চোখে মাপি

প্রায়শ্চিত্ত

কেন ফিরে আসো পুরোনো পাপ, পুরোনো ছায়া…যতই গুছিয়ে আনিতীব্র বর্তমান,ফিরে ফিরে ফেরনোংরা আঁচড়ে,কিছুটা ক্ষরণ, কিছু সংক্রমণ,দমবন্ধ অসুখের মত গলাতে বিঁধিয়ে রেখেডুব দাও। কত আর খুঁড়বো তোমার কবরের পরিচিত মাটি…ক্লান্তি, আমারও কি নেই?বুঝি তবে কিছু পাপআমৃত্যুইপ্রায়শ্চিত্তহীন…

নিবেদন

একটা কবিতার বই, বইটার সমস্ত বিশালতা- একটা তুচ্ছ মলাট;দেখেছো, কি নিলিপ্ত মমতায়জড়িয়ে-আগলে-আকড়ে.. ধরে থাকেনিজের সবটা দিয়ে। একটা কবিতার বই..বিপরীতে তুচ্ছ মলাট.. আমার যাবতীয় নশ্বরতার নামেযাবতীয় হীনতা আর দুর্বলতার মুল্যেআমিতোমার মলাট হতে চেয়েছি…

নিঃশ্বাসেরা নির্বাসনে যাবে

আহত অন্ধকারে জড়িয়ে গেছে কুয়াশার মেঘ, ডুকরে কাঁদে রাত্রির দ্বিপ্রহর, জ্বোনাকীর শোকের প্রদীপ… নিভু নিভু; জ্বলে ওঠে, তবু- কোন কথা শুনবেনা আজ, নিঃশ্বাসেরা; নির্বাসনে যাবে…. অর্বাচীন আবেগের বাষ্প-বিলাস আজ মিথ্যে, জীবনের কিনারা কোথায়? সময়ের অভ্যস্ত হাত পুতে দেবে সীমানা পিলার। তবু আমি তারাদের বলি, আর কত জ্বলবে? চলো, এবার বোধহয় কিছু বিশ্রাম প্রয়োজন। অনেক তো

আচ্ছা, ঘুমিয়ে যাও তবে

আচ্ছা, ঘুমিয়ে যাও তবে। ভেবোনা, আমার জন্যে ঢের রাত্রি এখনো বিছানায়। হা হা, আমি আছি, ভালো আছি, থাকি। একটুও বাঁধছেনা দেখো, আরে এভাবেই খোলা-তরবারি-ব্যথা ফের গিলে ফেলে অশ্লীল অট্টহাসবো, তুমি নিশ্চিন্তে চলে যাও। রাত্রির ঢলো ঢলো অন্ধকার স্তন মুখে পুড়ে মরে যাবো, তবু বলবোনা- প্রেম দাও! প্রেম দাও, প্রিয়তমা! আঁধারের অসহ স্তব্ধতা-যোনী, আমাকে গিলে খেলে