রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

Archives

স্পর্ধা নয়

পোষাকী স্বাধীনতায় আর পোষাচ্ছে না।স্বেচ্ছাচারের অধিকার চাই।যখন একটা মাত্র জীবনের, বর্তমানটুকু ছাড়াআর কিছুকেই বিশ্বাস নেই,অন্যায় বলো না, আমাকে নিংড়ে নিতে দাওআমার প্রত্যেক ফোঁটা বর্তমান। কি হবে, অন্ধতার ভয়ে আলোকে জাপটে রেখেশেষে অগোচর ছিদ্র ধরে চুঁইয়ে গেলেপ্রদীপের সবটা জ্বালানী! ড্রপারে জীবন মেপে বাঁচা যায়!কি হবে! এপাড়ে-ওপাড়ে, ভাঙ্গনের কালে ঘর বেঁধে?কি ক্ষতি! ভাসালে ভেলা অবহেলা ভরে? অনিশ্চয়তা

অসাড়

কলমের নিবে জড় হলো সমস্ত অন্ধকার।অথচ আমাররাত্রি ফুরোলে ভেবে, সেইকবে হতে কান পেতে আছি-শুনি নাই ভোরের আজান।পেঁচারাই ফিরে ফিরে ডেকেছে কেবল। এখনও-ঊষশীর আভা খুঁজিপূবের দেয়ালে। ভাবি,শুকতারা ছাড়া আরহয়তোবা,কেউ জেগে নেই। ভাবিনি,তারাসব লুকোবে গাসন্তর্পন মেঘে।অথবা,হাতের মুঠোর হাতঝরে যাবে নিস্পৃহবালুর মতন। আহ্‌..কলমে একটু ফোঁটা কালি নেই;কেবল অন্ধকার।

অহম

আমি ভাঙ্গি ব্যাথা, নৈঃশব্দ, রাতঘোরে জড় নিষাদীর তীরমুঠো মুঠো করে ছুঁড়ে ফেলি দূরে, জড়ো হওয়া যতো বিষাদের ভীড়।প্রেয়সীর চোখে অনিমিখ প্রেম, রূপোলী কাঁকন, ভেঙ্গেছি তাওবিকার বিহীন দলে চলি পায়ে, স্বপ্নের কুঁড়ি, আনত নাওডুবাই সরোষে, ঘৃণাহীন চোখে, আমাকে দেখে না উজানী কেউ_আমি বালুচর, আমাতে বিকোয়, জীবন শ্রাবণে প্রণতি ঢেউ। তবু আমি সুখ, অ-সুখের গালে ভীষণ পাঁচটা

মানুষ

মানুষের চোখে, নোখে ও চিবুকেনেকড়ে, শুয়োর, শেয়ালের ছাপদিনে দিনে হয় প্রকট, তবুও___ মানুষের বুকে, রক্তে, স্বপ্নে,করোটিতে, ঘামে, পেশী ও চোয়ালে-ফিরে ফিরে আসে পুরোনো মানুষ,___________________মানুষের ছায়া। মানুষেরা তবু সেই মানুষেরগলা টিপে ধরে, শ্বাস এটে ধরে,বুকে ছুরি মেরে চিৎকার করে,উল্লাস করে, উল্লাস_______!!! হে মানুষ, আর কোন শ্বেতবাসই_________________তোমার জন্যে নয়! মানুষেরা আজ মানুষের নামেমানুষের খুন, মাংস বেঁচছেমানুষে মানুষে

চ্যুতি

প্রশংসা অতৃপ্তি বাড়ায়সমালোচনা ক্ষুধা আর সৃষ্টিকে মুখিয়ে তোলে। বিদ্রূপ করো, চোখে আঙুল ভরে দেখিয়ে দাওকোনখানে কতটুকু খাঁদ আর বে-আব্রু সতর।প্রশংসা? ভিক্ষার মত লাগে। ভুল পথে বাহবা চাই নে।মুখস্ত প্রশস্তি পাঠ! টিটকারী এর চেয়ে ভালো,সুন্দর খুঁজে পেতে গ্লাণি কি বলো, চপোটাঘাতে। কিছু মুদ্রায় পেলে যদি চুমুর কাঁপন,কেনো হৃদয় বিকিয়ে দাও?কেনো ঠকো ও ঠকাও? জেনো,বাঁচবে না আর

আহ্লাদ

বয়েসটা থেমে যেতো যদি..শৈশবের “আমি”টায় ফিরে যাওয়া যেতো যদি..কিছুতেই কোনদিনও, এই অনিশ্চিতদূষিত যৌবনে, ভারক্লান্ত প্রৌড়ত্বের দরজায়দাঁড়াতে না হতো..কিংবাজীবনের মুখস্ত ধারাপাতেএতোটা অরুচি নিয়েবেড়ে ওঠা “আমি”পিছুটানহীন অবাক উড়ালেনিরুদ্দেশ হতে পারতাম যদি…. এই একুশ শতকে এসে__বেঁচে থাকা যেন, ঘানি টানা বলদের মতোএকঘেয়ে, ক্লান্তিকর। মুখস্ত নামতার মতোবারবার লিখবার বিরক্তি… কে জানে! জন্মাতে বুঝি বড় দেরী হয়ে গেলো!বেশ দেরী..বেশ ক’টা

মেঘাতু নিহিরা

মেঘাতু নিহিরা একটি কাল্পনিক পাখিযদিও তার ডানাগুলো ভীষণ সত্যিকারের, এবংতাতে কোথাও কোন সেলাই ছিলো না। মেঘাতু নিহিরা একটি কাল্পনিক পাখি, যদিওতার অস্তিত্ব এখন প্রশ্নাতীত সত্য।তার সাবলীল ডানায় আজ কবি দ্যায় অবাক উড়াল।তার খুব লোভী চঞ্চু, ঠুকরে খায়বুক ভরা পাললিক প্রেম। মেঘাতু নিহিরা হয়তোবা কোন কাল্পনিক পাখিতবু, আজ কোন কবির জীবন।

আহ্বান

এসো ফুলকলি,খেলি, খেলাঘরভেঙে যায় যাক..তবু তো ফুরাক,জড়তা বা দ্বিধাযা ছিল; সকলি।এসো, বেলা যদিঅবেলা অ-ক্ষণেফুরোবারে চায়..দিও না বিদায়..এসো ছায়াছবি..প্রীতিলতা, প্রিয়..মৃত পল্লবেঢাকা পড়ে রবেপুরনো যে ক্ষত,উষ্ণ আবেগেগাঢ় চুম্বনেসারাবো সে সব..এসো বিভাবরী..কেবল তোমারই..রাত্রির মতো..একা প্রেমিকেরউদ্বাহু বুকে..

কবিতা (২)

তুমি ক্ষোভের কবিতা শোনো নাই__তুমি কবিতায় দ্যাখো নাই বিদ্রূপ ও ঘৃণা__পংক্তির ভাঁজে জমে থাকে শ্লেষ ও থুতুএমন কবিতা বড় অচেনা তোমার। তুমি এমন কবিতা শোননি,যার প্রতিটা শব্দবন্ধে খেলা করে                              স্ফুলিঙ্গ,যার মাত্রান্তে মননের রন্ধ্রে পড়ে                              হাতুড়ের ঘা।এমন কবিতা তুমি পাওনি কোথাও,যার সমস্ত শরীর জুড়েকুকড়ে থাকে বিস্ফোরণ। তুমি কবিতা ভালোবাসো!কিভাবে! কিভাবে বাসবে তুমি?কবিতার জীয়নকাঠি ভেঙ্গে গড়ে নতুন

কবিতা

কে বলে, “কবিতা”-রাআগাছার মতো বেড়ে ওঠা ভুল ঘাসফুল!কে বলে, “কবিতা” কোনভুল মেঘ বেয়ে আসা বেহায়া বৃষ্টি!কে বলে, “কবিতা” শুধুবন্ধ্যা অনুভুতির অবৈধ মিছিল!কে বলে, “কবিতা” কেবলমূক যুবকের বুকে তীব্র ওঙ্কার… “কবিতা”চোখের কোণে অশ্রু হয়ে ঝড়ে…“কবিতা”চোখের তারায় আগুন হয়ে জ্বলে… পাহাড়ী ঢলের মতো তীব্র অনুভূতির নাম-“কবিতা”।তপ্ত বারুদে বিস্ফোরণের আহ্বানযত উদ্ধত স্ফুলিঙ্গ-ওরা “কবিতা”। “কবিতা”-কেবল বর্ণে-শব্দে-ভাষায়তুচ্ছ নকশা আঁকা নয়,মৃত্যুন্মুখ