রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

Archives

নিঃশঙ্ক ভাস্কর

আজ কেন মন খুনের নেশায় মত্ত পাগলা ঘোড়ামিথ্যে মায়ার কুহেলিকা টেনে লুকোয় বর্ণচোরা। তোলে ঝড় মনে অজর প্রশ্নে জীর্ণ বর্তমানমার খেয়ে পিঠ ঠেকেছে দেয়ালে; উদ্বাহু শয়তান।“কে রুখবি আয়…” হাঁক ছেড়ে যায় ক্ষোভে ফুলে ওঠা বুকইস্পাতে গড়া কলিজা ভিতরে উদ্ধত উন্মুখ। ভাস্করে আজ গ্রহণের ছায়া, কোথায় মানব ধর্মলোষ্ট্র-কাষ্ঠ-প্রস্তরে বেঁচে মাংস-অস্থি-চর্মবাসুকির বিষে শ্বাপদারণ্যে বিবেক হয়েছে লাশসিংহের জাত

তোমাকে, প্রিয়তা

সব মেঘের জন্ম-ইতিহাস আমার জানা নেই.. সে কি সম্ভব!আমার ছোট্ট উঠোনে বৃষ্টি এলে; ভিজতে পারি বড়জোর,বড়জোর পলকা হাওয়ায়ছেড়ে দেই; গুটিকয় দীর্ঘশ্বাস।জানোতো আমার দুর্বলতা- নিজের চতুর্পাশেঅনুভুতির নরম পরতা ঘিরেঅসহ্য কঠিন নিস্পৃহতার খোলস…যা ভেঙ্গে আমার আমাকেপড়তে পারেনা কেউ… প্রিয়তা…জানিনা কি ভাবছো?কি ভেবেছো?তোমার মিথ্যেকে ঘিরে সত্যের মত কিছু মিথ্যের মোড়ককিভাবে সত্যিই সত্য হয়ে গেলো,মিথ্যের আনাড়ি সওদাগরিতেআমার চালানের কিছু

সত্যের সত্যাসত্য

সবচেয়ে বড় সত্য কি?সূর্য, পৃথিবী, জন্ম, জীবননাকি মৃত্যু? শোনা যায়,  ক্ষুধাই নাকিপৃথিবীর একমাত্র সত্য।কিন্তু,পৃথিবী নিজেই যখন মিথ্যে হয়ে যায়-আজন্ম দেখে আসা অজস্র উপমার আকাশযখন বাতাসের ঠুনকো দেয়ালছাড়া আর কিছু নয়-প্রশ্ন জাগে- “সত্য” আদতে কি? বাজী হারতে হারতেআজ এই জুয়ার টেবিলে“বিশ্বাস”-এ বিশ্বাস করি না,প্রবৃত্তির দাপটে ধর্মের মিনার গুড়িয়ে গেলেওক্ষুধার প্রাচীর টলে না-ক্ষুধা নিজেই তো প্রবৃত্তির সারমর্ম।

দলছুট দীর্ঘশ্বাস

মেঘগুলো ঝরে যাক, ঝরে যাক- নির্বাক বেদনার দলছুট অস্ফুট ওঙ্কার। আমাদের জীবনের নির্জলা মোহনার নিস্প্রেম পথচলা.. যাক যাক, থেমে যাক। আজকের বৃষ্টিতে, আধভেজা দৃষ্টিতে, ধুলোধুলো অনুভুতি মিলেমিশে একাকার আবেগের কাদামাটি.. থাক থাক, লেগে থাক। হৃদয়ের মরুভুমি, বালিয়াড়ি, শশ্মানে, দপ করে মুঠো মুঠো রোদ-জ্বলা খড়কুটো ম্লান করে হোক, তবু- কিছু প্রেম জন্মাক। আর- হাতের মুঠোর হাত

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ ;)

কবির হৃদয় আকাশ নিয়েকরছো চালাকি!সূর্য খুলে পড়লে বুকেবুঝবে জ্বালা কি 😛 ভাবতে পারো “এহ”, “তামাশা”,“উঠতি ভাবের তোড়”“কবি এবং কাকতাড়ুয়াআচ্ছা মানিকজোড়” ভাবতে পারো পাগলা, ক্ষ্যাপাকিংবা বাউন্ডুলে,ভাবতে থাকো, ভাবনাগুলোজটলা পাকাক চুলে। যায় আসে না ভাবলো কি সবছুঁচো-বাদুর-মুখীএইতো আমি বেশ আছি সেইআমার মতই সুখী। আস্তে বাছা, খেলার নেশায়মন ছুঁয়ো না আর।কবির হৃদয়, ভীষণ আকাশসামলে, খবরদার।

সিগ্রেট

জীবনটা একদম সিগ্রেট হয়ে যাচ্ছে.. প্রতিটা মুহুর্তেই জমছে ছাইয়ের পরত।যেটুকু অন্তঃসার, মিশে গেছে ধোঁয়াটে সুখে।তবু আঙ্গুলের আলতো টোকার পর, ঠোঁট ছোঁয়াতেইউস্মা ছড়াচ্ছে আগুন.. আর অহর্ণিশ, সারাটা সময় ধরেফুরিয়ে যাবার, কি ভীষণ তাড়া! শালার জীবন! একটা গোল্ডলিফ, মাত্র চারটাকা.. এপ্রিল, ২০১১

অন্ধমণি

রেখেছি! রেখেছি! টের পাস….? পাজরার হাড় ঘেরা চৌহদ্দিরএইখানে, এই কোণেসুনসান নিঃসাড়ে, সংগোপনেছুঁয়ে দ্যাখ…দ্যাখ মনা…টের পাস? স্বপ্নের বালিহাঁস জোড়বেঁধে সাঁতরায়চারধার ঘিরে বয় প্রেমময় খুনধারাধ্বক ধ্বক জেগে আছি, বেঁচে আছি ভালোবাসা..আর কতো কাছে এলে; কাছাকাছি হয় বল?আর কতো কাছে এলে;কাছাকাছি হবো বল?টের পাস? চুমুর কাঁপনগুলি এইখানে বেঁচে রয়প্রতি-চোরা-পরশনও এখানেই জেগে রয়যত দ্বিধা, যত প্রেম, যত ভয় আর

অচ্ছুত

আমার যা যাবার পুরোটাই গেছে,যা আছে, তা আর যাবে না কিছুতেই।আমার কি ভয়! এই ঝড়ো রাত্রির পথেহঠাৎ হোঁচটে… আমি ছুঁয়ে দিলে, নষ্ট-ভ্রষ্ট হবে সবআগুন জ্বালিয়ে যাবে বাবুইয়ের বাসাধ্বসে যাবে মিনার-মন্দির, কীটেরা জড়াবে পাপেঅর্ঘ্যের ফুল। আমি ছুঁয়ে দিলে,থেমে যাবে সকাল-সুরভী, ঊষশীতে রঙের নাচন,হঠাৎ বৃষ্টি, আকাশের বুক ভাঙ্গা রংধনু প্রেম..থেমে যাবে সব; আমি ছুঁয়ে দিলেই… এখন বিষাদ

বিদ্রূপ – ২

রাত্রির পেট চিরে বেরিয়ে আসছেপিশাচীনী কাল-গোক্ষুর!বিষের এমন ভার; আর নিতে পারছি নাএতোটা ভাঙ্গন তবু, বেঁচে আছি;  হারছি না। সবদেখেও বুজিয়ে রাখা চোখেঠিকরায় ধিক!গলাতে পাকিয়ে ওঠেদলা দলা থু!শুধু ঘৃণা কি শিখিনি বলেআজো কি পবিত্র! তোমাদের মুখ…

মড়ক

শরাহত সুখী শোন-কাফনের মমি দেখি এথা শুধু, মানুষ দেখি না কোন। কী হবে এখানে প্রেম বুনে বৃথা, কি লাভ ছড়িয়ে মায়াএখানে কেবল কায়াহীন বেঁচে খুনপায়ী অপছায়া।এখানে ষোড়শী হৃদয় বেঁচেছে, যুবক পেতেছে হাড়এখানে শ্বাপদ লেহী জিভে চাটে ভীরু ঠোঁট বালিকার।এখানে আমার কথার শিকলে সুর বাঁধে শুধু গ্লাণিএখানে পথের প্রতি পদে পদে পতনের হাতছানি।এখানে কখনো হৃদয় বাঁধেনি