রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

Archives

গোধূলিকা

তোমাকে এনে দেবো বলেঅনুভূতির অনুরণনে কাঁদা সুর,    সুর দিয়ে গেছি         সম্ভব অসম্ভবের              সবকটা কবিতায়।আচ্ছন্নতার শেষে খুলি চোখ,চোখে পরে পড়ন্ত সূর্য,এবং কারো চলে যাবার                ক্ষয়িষ্ণু পদচিহ্ন। এভাবেই,যদি চলে যাবে..খেয়ালী সারস স্বভাবে..কি প্রয়োজন ছিলোএই একুশ শতকে এসে           অর্ফিয়াসকে              আবার জন্ম দেবার? আমিতো অর্ফিয়াস হতে চাই নি।উদাস কবিতার পোষক আমিপ্রেমিকও হতে চাইনি।শুধু “স্বপ্ন দেখবো”- এই স্বপ্নটা দেখেচোখ রেখে

নিশীথিনীর প্রতি

উদাস নিশিথীনী নক্ষত্রের কসম কেটেছিলো;সে কি কেবলি তার উদাসীনতা…? নিশিথীনী…দ্বিতীয়ার যে চাঁদের ছাপ রেখে গেছেক্ষরা-পোড়া বুকের এ ধূ ধূ জমিনে,সে কী তারবেখেয়াল আঁচড়? মননের কাদা-জলেযে পায়ের ছাপ,রেখে গেছো নিশিথীনী তুমি…সে কি শুধুঅনভিপ্রায়ে…? নিশিথীনী…তমশার এ যাজকআজ কারো “তামাশা” কি নয়?যোজনের নিখাদ আবেগমেঘ হয়ে উড়ে গেছে কবে…ষোড়শীর চপলতাস্বপ্নময়অতৃপ্ত প্রেম হয়ে বাজে..আজ কৃষ্ণপক্ষের মৃত্যুক্লান্ত চাঁদঢেকে দাও পান্ডুর বিবর্ণতায়…যা

ভ্রান্তিবিলাস

আজ মনে হয়যা ভেবেছিযা লিখেছিযা বলেছিসব… ভ্রান্ত-উদাস-মিথ্যে ছিলো..মরিচিকার মরচে ছিলো..অবুঝ বোকার কাব্য ছিলো..আবর্জনার ভাগাড় ছিলো সব…. আজ মনে হয়..নদীর পাড়ে ধূলির ‘পরে;বালিয়াড়ির বালির ‘পরে;জীবনবিহীন শুভ্র চরে;ফেলে আসা পায়ের ছাপেরঅন্ধদিনের জীবাস্মরা-মেকি-নিথর-অবস ছিলো..অমবস্যার কান্না ছিলো..পথ হারানোর ক্লান্তি ছিলো..ক্লান্ত শ্বাসের ভ্রান্তি ছিলো..তুচ্ছ কীটের পুচ্ছ ছিলো সব… কিংবা হঠাৎ রঙ্গশালায়প্রথম মাতাল; মদের নেশায়,প্রথম পাওয়া মুক্ত ডানারস্বেচ্ছাচারী অহমিকারআহম্মকীই হয়তো ছিলো,অভিজ্ঞ

শেষ চিঠি

মন নিংড়ে মনের কথামনের গভীরে…যা ছিল সব ভাসিয়ে দিলেমআকাশ গাঙের তারার স্রোতেতারার আখরে…আলোর মিছিলে… আভাস ছাড়াই হঠাত্ কোন রাতে-তন্দ্রাভেজা তোমার চোখের ভীরু পাতার প’রে,উদাস চাঁদের ফিনকি দেয়া জোত্স্না যদি ঝরে,জানলা চু’য়ে ফোঁটায় ফোঁটায় নিটোল অন্ধকারে,লজ্জা ভুলে জোনাকীরা নীরব অভিসারে,আঁকলে চুমু গালের ধারে, কানের লতি বেয়ে-অভিমানে ঘুম ভেঙে যায়; হঠাত্ যদি মেয়ে…হঠাত্ মধ্যরাতে… ইচ্ছে যদি হয়-আস্তে

দুঃসময়

আমারঅন্ধমেঘের গন্ধে ভরা দন্দ্ব-জ্বরার আকাশটায় মন্দবেলার ছন্দপতন প্রচন্ডতায় প্রকাশ পায়। আঁধার ঘনায়; বাঁধার প্রাচীর ধাঁধাঁর মতো বুকের পর বারেবারে আসছে ফিরে ভাঙ্গছে পাজর পাষাণ ঝড়। দাপায় দানব নিয়তি আজ, খেলছে জুয়ায় পুতুল নাচ তপ্ত খুনে রাঙছে জীবন, স্বপ্ন নারে; ভাঙ্গছে কাঁচ। প্রতিশোধের বোধ ওড়ে আজ প্রতিরোধের তুমুল তোড়ে, সুযোগ পেয়ে মাছের মা’রা পুত্রশোকের লোবান পোড়ে।

ফুলকি

আকাশের ভার মাথার উপরে, দেয়ালে ঠেকেছে পিঠ,মন বলে, “তুই হেরেই গেলি রে”, বোধ বলে- “তুই জিত্”।“হারবি কি তুইএ কুরুক্ষেত্রে!ওঠ্, লড়, এইলড়াই জেতরে…এক কানাকড়ি সুযোগ হেলায় দিস্ নে হারাতে আর…”নিজ কাঁধে তাই তুলেছি আমার স্বপ্নজয়ের ভার। অনেক সয়েছি, নীরবে ক্ষয়েছি, ভুলেছি কি ছিলো লক্ষ্যজানি আজ আমি নিশানা আমার, কেটেছে কৃষ্ণপক্ষ।থেকে থেকে প্রানকরে আহ্বানবাজে রণভেরী,নাচে শয়তানমনন-বোধের দ্রোহী

অন্ধলিপি

এভাবেই, একটা একটা করেঅনেকটা রাতের পর, ভুলপথেস্বপ্ন; ফিরে আসো যদি…দোহাই, মিনতি করছিজানালার ও’পাশ থেকেই ফিরে যেও।আমাকে ছুঁ’য়ো না তুমি,বড় অচ্ছুত আমিসুখস্পর্শের। স্বপ্ন,আজ এতোটা পথঅসংখ্য স্বপ্নভাঙ্গা কাঁচের টুকরো মাড়িয়ে…এখন আমার পদচিহ্ন মানেইনোংরা জমাট রক্তেরচাপ চাপ কালচে লাল,আমার স্বপ্ন মাত্রেইভঙ্গুর কাঁচের আসবাব,আমার স্মৃতিরা ভাগাড়ে লাশের অবশেষ;উৎকট গন্ধ ছড়ায় কেবলই… স্বপ্ন, আমাকে মুক্তি দাও.. আমি মুক্তি চাই এ

একজন কবি কে

নগরে নতুন কবি এক…দ্বিধাগ্রস্তের মতভীরু পা ফেলেছে সবে- তারবুকের নতুন ঘাসের সবুজে-হাতের মাটির সোঁদা গন্ধে-আর চোখ ভরাসূর্যের গনগনে লালে…আমি স্বপ্নের অঙ্কুর দেখি… প্রত্যাশার কথা বলছি বন্ধু… শোনো.. এখন দুঃসময়-এখন শব্দে-ভাষায়-আলোয়-গন্ধেকেবলই বেনিয়াবৃত্তি,রক্তের ব্যবসায় বুঁদ বেনিয়া শকুন।রঙ্গের প্রলোভনে হৃদয় বেঁচো না বন্ধু;সত্ত্বার আলোটুকু বদলে নিও না নষ্ট নিয়নে- এখন দুঃসময়-তেরশত নদী্র মতই ক্রমসংকীর্ণমান মানুষের বুক,ক্রমসংকীর্ণমান মানু্ষ,মানুষ-আর মানুষের

প্রলাপ

অস্পষ্ট মায়ার শিশিরে ভেজা চোখেপ্রশ্নের খাম খুলে ভালোবাসা রেখে যাই… রাত্রির গভীরে যখন ইথারে ভেসে আসা স্বরেআবেগের স্ফীতিআমাকেও কিছুটা নাড়ায়কিছুটা কাঁপায়, আর ভাবতে বলে… যদিও,সাত-পাঁচ না ভেবেই শেষমেষ, অতর্কিতে প্রশ্নের খাম খুলেপাপড়ির প্রতিটা ভাঁজেকিছুটা বেওয়ারিশ ভালোবাসা রেখে যাই… কি লিখবো, তুমি তো নিজেই কবিতার বিষণ্ণ পংক্তি..ভাঁজ খুলে সুখের আবহ মেলেচুপচাপ নিজেকে লুকাও…অথচ,তোমার চোখে ব্যথাদের আবৃত্তি

মেঘা

মেঘ কেন তোর মুখ কালো রে;চোখ কেন ভার ভার?ঝাপসা উঁচো আকাশ পাড়েভিজে বাতাস ভেজায় না’রেছিচকাঁদুনে মেয়ে তবুজিদ ধরে কাঁদবার… আমার সকাল আমার দুপুর,আমার চোখের তারার নূপুর, উঠলো নেচে তোর পরশেবুঝলি না সে তুই..অবেলাতে আসিস কেন?শত্রু আমার ভীষন যেন!ভাসাস কেঁদে মনের উঠোন-ভূঁই।দেখনা হেসে- কাশবনেতেতোর ছোঁয়াতে কাশ ফুটেছে,আর ফুটেছে জুঁই-হেনারা; আমার আঙ্গিনার।।ছিচকাঁদুনে মেয়ে তবুজিদ ধরে কাঁদবার… আমার