রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

Archives

(এন্টি) সুইসাইড নোট

বিশ্বাস করুন, আমি প্রচন্ড আত্মহত্যা প্রবণ একজন মানুষ। যদিও আজীবন, নিজেকে গোঁড়া জীবনমুখী দাবী করে এসেছি। এবং আমি নিশ্চিত, আমার অধিকাংশ বন্ধু উপরের প্রথম লাইনটা পড়েই হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে। অথচ, “মৃত্যুন্মুখ জীবন বিলাসীতা” আমার রোজকার দিনযাপনের স্লোগান ছিলো। বারবার এমন একটা কথার ব্যাবহার কাউকে কখনোই কিন্তু ভাবায় নি। সাদা চোখে, আমি হচ্ছি পৃথিবীর সুখীতম মানুষদের

ইদানিং, আমারও একটা স্বপ্ন আছে

  আমি বোধকরি, কিছুটা ব্যতিক্রম ইদানিং। ইদানিং, আমার একটাই স্বপ্ন আছে। একটা বদ্ধ ঘরের স্বপ্ন আছে। সেই ঘরের দেয়াল-সিলিঙ-মেঝে সমস্তটাই কালো, কুচকুচে মিশমিশে কালো। ঘরের সমস্ত আসবাব কালো, ঘরে কোন জানালা আছে কি নেই এখনো বুঝে উঠতে পারিনি। যদি থাকে, তবে জানালার কাঁচ, আমি চাই, সেও নক্ষত্র না থাকা রাতের মতোন কালো হবে। ঘরের সমস্ত

শুভ জন্মদিন, হেলাল হাফিজ

তখন ইন্টারে পড়ি। কোথাও কোনভাবে কোন একটা কবিতার কিছু লাইন মাথায় গেঁথে গেলো। অনেক খুঁজে পেতে জানলাম কবির নাম, “হেলাল হাফিজ”। তার কবিতার বই? সেইবার বই মেলায় খুজে খুজে এ-স্টল ও-স্টল করে কিনে ফেললাম “যে জ্বলে আগুন জ্বলে”। একেকটা লাইন পড়ি আর মুগ্ধ হই। একেকটা কবিতা পড়ি, আর মুখে গালির তুবড়ি ছোটে। এ আমার বিরাট

বাৎসল্যের বায়োস্কোপ ভেঙে

আমার জীবন সর্বনাশা হলেদায় নেবে তার? সত্যি করে বলোহাসির ফাঁসি গলায়, রুদ্ধশ্বাসেএমনি করে মরতে মরতে বেঁচেথাকার মানে হয় কি বলো কোন!জীবন এমন সর্বনেশেই হলো!তোমার জন্যে, বলি যদি, মানবে তুমি, মা! দোষ দেবো না, দোষের কিছু নেইদোষ আমারই, মানছি, জানি, তাওসামলে নেবার কথা ছিলো তবু।অনেক কিছুই কথা থাকে, জানোকথার কথায় দিক হারালে, তখননিজের দ্বিধায়, নিজের ব্যাথার

দিনকাল

ক্ষুধা কান্না আর অতৃপ্তির অদ্ভুত সহবাসে তৃষ্ণার আর বুঝি জায়গা হলো না।শুদ্ধ, অমিয় যা, ভাগাড়ে এসেছে ফেলে জীবনের নোংরা প্রতিযোগ।রুঢ় বাস্তব হাত গলা টিপে ছুঁড়ে ফেলে সকালের স্নিগ্ধ  কবুতর।কচি অংকুর গুলো, চিবুতে চিবুতেগদিতে ফিরে যান বিত্তবান ষাঁড়। উৎপাদন আর উপার্জন সর্বস্ব পৃথিবীতে“সৃষ্টি” কি জানো?যতক্ষণ না ভালো বিক্রি হচ্ছে, বাজারে উঠছে না দাম, “সৃষ্টি” সেটাই, যা

নিষিদ্ধ সৈকতে

আমি সমুদ্রের ওপার থেকে বলছি;আমার কথা-তোমার সৈকতে আছড়ে পড়া ঢেউ।আমার প্রেম-জানি;অপরিমেয় জলেরও অধিক।তবু,তোমার, আমার কিংবাআমাদের নিয়তি,নিয়তির মতো কোন তৃতীয় পুরুষ,নিষ্ঠুর কংক্রিটেরব্লক ফেলে ফেলেতোমার কিনারে দিয়েছে বাঁধ। তুমি আজ এমন এক সৈকত,সমূদ্রবড় অবাঞ্চিত, নিষিদ্ধ যেখানে। কিন্তু, জানোতো-ঢেউয়েরাও বিরামহীন;নিরন্তর আছড়ে পড়ে।বড় আশাবাদী ওরা,একগুঁয়ে স্রোতের মতনওরাও বিশ্বাস করে-বাঁধের শাসন ভেঙ্গেএকদিন হঠাৎ জোয়ারসোল্লাসে ভেঙ্গে দেবেহৃদয়ের সব বাঁধ,বালুময় পাড়। কে

প্রতি-কথন

বিস্মরণের দরজায়ফের কড়া নেড়ে দ্যাখতো,অসময়ের মেঘে কয়ফোঁটাবৃষ্টির জলে,আমার স্পর্শ নেই??আর, এখন তো রোদ্দুর বেশ। তমশার কালে, আশাদের চকমকিক্লান্তিহীন ঠুকে যেতে, কখনো কিএই চোখে দেখেছিলিকানাকড়ি দ্বিধা??এতোকালে এই তবে চিনলি! হুম, এখন রোদ্দুর বেশ।সুসময়, সকাল আর সবুজেরভাগ নিতেআনাড়ি আমায়; ক্ষমা করিস। না’হয় ধরে নিলি,দিতে দিতে, বিলোতে বিলোতেহঠাৎ খানিক কিপ্টেই হয়ে গেছি।কিংবা, খুব ভালো থেকেকিছুটা খারাপ হলেকি এমন

আহ্বান

কে তোরা রুখবি তারে জীবন খুলে, প্রলয় তুলেলক্ষ যুগের ফেনিল ক্ষোভ আজউঠলো দুলে; কাদের ভুলে?রক্তে কাদের সাগর মিশেঝড় তুলে যায় পাজর ঘেঁষেকে তোরা প্রাণ দিবি আয়, প্রাণ বাঁচাতে অনিঃশেষে।। যে আকাশ আঁধার ঘনায় বৈশাখীমেঘ-মত্ত ডানায়,যে আকাশ বজ্র হানে তোদের বুকেই; বুকের খাঁচায়সে আকাশ মাথার প’রে রাখবি ধরে, আছিস কে রে?এক ঝাপটায় ঝঞ্ঝা যা সব ধুলোর

স্বপ্নভঙ্গ

তুমি আসবে বলে, স্বপ্নের তোড়া হাতেআমি দাঁড়িয়ে ছিলাম, হৃদয়ের দরজায়,কথার ফুলে ফুলে, সাজিয়েছিলাম মনের বসত,আবেগের মহুয়ায়, পেয়ালাগুলোভরেছিলাম কানায় কানায়।আহ্বানের তোরণ ছিল নিস্পলক আমার দৃষ্টি জুড়ে….শুধু তুমি আসনি;শুধু চেয়েদেখেছো দুরে,ফুলেদের মতোস্বপ্নের ঝড়ে পড়া…

ক্ষরণ অন্তর্লীন

মন্বন্তরের মধ্যভাগে অনাহারীর বুকের খাঁচারজীর্ণ প্রাচীর স্বপ্ন আমার, যাচ্ছে ধ্বসেদু’শ বছর দাঁড়িয়ে এখন ধুকতে থাকা দেয়ালগুলোর                                                 সুরকী সমান…তবুও এখন বাঁচতে চাওয়া, পাহাড় থেকে পড়ার পথেদূর্বাঘাস আর শ্যাওলা ধরে বাঁচার মতো,রাতের আকাশ ভর্তি তারা হয় যদি এইবুকের ক্ষত; গুনবে কতো??অজুত-শত-লক্ষ-কোটি স্বপ্ন মরে পঁচে “পচন”এখন আমার বুকের গহণঅন্তলোকের নিত্যদিনের গল্প-গাঁথা। তবু যেমন নিয়ম মেনে নিত্য ভোরে সূর্য