আমি বোধকরি, কিছুটা ব্যতিক্রম ইদানিং। ইদানিং, আমার একটাই স্বপ্ন আছে। একটা বদ্ধ ঘরের স্বপ্ন আছে। সেই ঘরের দেয়াল-সিলিঙ-মেঝে সমস্তটাই কালো, কুচকুচে মিশমিশে কালো। ঘরের সমস্ত আসবাব কালো, ঘরে কোন জানালা আছে কি নেই এখনো বুঝে উঠতে পারিনি। যদি থাকে, তবে জানালার কাঁচ, আমি চাই, সেও নক্ষত্র না থাকা রাতের মতোন কালো হবে।
ঘরের সমস্ত আসবাব কিন্তু বেশি কিছু নয়, একটা বিরাট টেবিল আর একটা চেয়ার। টেবিলের ঠিক উপর বরাবর একটা ৬০ ওয়াটের বাল্ব। বাল্বটা ঝুলতে থাকবে, বাংলা সিনেমায় পুলিশ-রিমান্ডের দৃশ্যের মতো।
তবে আমার কালোকাঁচ জানালার বাইরে একটা বারান্দা থাকবে। বারান্দা ভর্তি থাকবে গাঢ় সবুজ অর্কিডে, লতায়। আর থাকবে, কিছু খুব সাদা রাতে ফোটা ফুল। কখনো মেঝেতে বসে বা চেয়ারে এলিয়ে আমি যদি জানালা খুলে দেই, সবুজের তীব্রতা যেন আমায় অন্ধ করে দিতে পারে।
জানালাটা দক্ষিনমুখী, সামনে অনেকখানি খোলা জায়গা। সে মাঠ কিংবা নদী অথবা শহরের শেষ কিনারা, যাই হোক। রাতের বেলায় কৃষ্ণ পক্ষের চাঁদ জাগবার সাথে সাথে বাতাসের দাপটে ঠকঠক করে কাঁপবে জানালা। খুলে দিলে, মানুষের মৃত্যুর মতোন ফুলের গন্ধ আমার ঘর ভরিয়ে দেবে মুহুর্তে।
এই সমস্ত ভাবতে ভাবতে আমার একজোড়া সাপের শখ হলো। জুলজুলে চোখের নীল সুতোর মতোন সাপ। ওদের জন্য রাখবো গোল সাদা দুধের বাটি।
কিন্তু ওদের কোথায় জায়গা দিতে পারি!!
তারচে বরং অমাবস্যার মতোন কালো একটা বিড়াল খুঁজে নেবো। নতুবা, মাকড়শারাই সই!!
এই কথাগুলো যখন ভাবছি, আমি তখন অফিসে; কেরানির টেবিলে। আমার একপাশে টেন্ডারের কাগজ, খরচের ভাউচার। পিসি-র মনিটরে এক্সেল এ খোলা আছে ফিনান্সিয়াল রিপোর্ট।
আমার সামনে অনেকগুলো ডেডলাইন, যা আমাকে মিট করতেই হবে। চেকবুক, ক্যাশবুক, লেজারের ভারে আমার মেরুদণ্ড বেঁকে এসেছে বহু আগেই।
আমি এখন একটু বেরুবো। একটা সিগ্রেট ধরাবো। কাজ সেরে ফিরতে হবে তাড়া করেই, বাবাকে ডাক্তারখানায় নিয়ে যাবার তাড়া, মা’র ওষুধ কিনবার তাড়া। আর, হিসেবের গড়মিলে ব্যালান্স করতে কিছু সাদা ভাউচার-স্লিপ খুঁজে নিতে হবে পথে। সামনে অনেক গুলো ডেডলাইন, হিসেব মিলানো জরুরী।
ক্রীতদাসের হিসেব থাকে না যেহেতু, আমার বেঁচে থাকা বেহিসেবী। আমার যে বেনিয়া প্রভু, আমি তার হিসেবের খাতায় বেঁচে থাকি।
ক্রীতদাসের হিসেব থাকে না যেহেতু, আমার বেঁচে থাকা বেহিসেবী …।।
হিসেব করে বেহিসেবী হবার সামর্থ্য রাখে অনেকে 😛
বেঁচে থাকার কত রকম মানে!! কত রকম রঙ!! সামর্থ্যের বিপরীতে ক্লান্তির অনুপাত প্রশ্ন তোলে 🙂