রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

Archives

ফেরী এবং নাগরিক মাহুতেরা

ফেরিঘাটগুলোর একটা আলাদা ঘ্রাণ আছে। ছোট ছোট নদীগুলোর আলে রাস্তা থেমে দম নেয়। হলুদ হলুদ পিচ্চি ফেরিগুলো বুক মেশায় পলকা পল্টুনে। তখন এলুমিনিয়ামের দড়িরা এসে যে বেঁটে পিলার গুলোকে কচ্ছপ কামড়ে আঁকড়ে ধরে, তার উপরে বসে ময়লারঙা চা’কাপে ঠোঁট ছোঁয়াতেই ঘ্রাণটা টের পাওয়া যায়। হঠাৎ ঝড় উঠতে যাবে এমন কোন শেষ বিকেলে, ধুলোরা হাওয়ায় গলাগলি

অ-সমান্তরাল

  আমাকে বেসো না ভালো, জয়ীতা। একদিন, হয়তো, আমারো দেবার ছিলো অঢেল, দেদার অথচ এখন, জানো, হারাবার খুব কিছু বাকী নেই। সব গেলো বন্যার জলে ধানের মতোন, মিলিয়েছে উজানের ঢলে। ডাস্টবিন ঘেঁষা ফুটপাথ, হয়তোবা তারও থাকে ঝালমুড়ি বিকোবার সাধ। সে সব গ্রাহ্য কোন অজুহাত নয়। আমাকে বেসো না ভালো, জয়ী। দ্যাখোনা আঙুলে কেমন বয়সের ঝাঁঝ,

স্ফটিক

  ভালোবাসি বলেই বেঁচে আছি, মরে যেতে ইচ্ছে করে- ভালোবাসি বলেই। উন্মুখ বৈপরীত্যের অজস্র অ-সুখ নিয়ে জীবনের সুখ সুখ স্লোগানে গলা মিলাতেই.. আমাদের উদ্ধত অধরে  অ-পরিণত চুম্বনেদের উশখুশ আনাগোনা, আমাদের চোরা চাউনির হাত ধরে খুব সন্তর্পনে আমাদের গ্রাস করে ফ্যালে। খুব সাবধানে আমরা ফেলেছি জেনে- এই চোরাবালি দিন; শ্বাপদ সময়ে চৈতালী বিকেলের মৃত দীর্ঘশ্বাসে আচানক

ঘোড়া আর লাগাম

  কথা হচ্ছিলো ঘোড়া আর লাগাম নিয়ে। বল্গাহারা ছেলেটির পাগলা ঘোড়া জীবনে লাগাম টানা দরকার। এখানে, ঘোড়াটি একটি ছেলে, আর লাগামটি তার জীবনে একটি মেয়ের উপস্থিতি। (নারীবাদীগণ, প্লিজ, গালমন্দ করবেন না, এর বিপরীতটা সই মেনে তবেই বলছি)।   শুনে ছেলেটির জন্য আতংকিত হলাম, মেয়েটার জন্য অনুভব করলাম তীব্র মায়া।   তারপর বিরবির করলাম, “লাগাম আর

ঘোর

  মাঝে মধ্যেই হারতে ইচ্ছে করে, ইচ্ছে করে আর না ফিরে ঘরে এমনি ধুসর পথের অনুরাগে ইচ্ছে ভীষণ, এমনি যেতে মরে। এমনি সরে অর্থবিহীন গাঁথায় অনুল্লাসের কাঁচের গুঁড়ো মেখে দুচোখ হাতে ভ্রমযাপনের গ্লানি জর্জরতার সেলাই পাতায় পাতায় খাতায় তবু পলকা প্রেমে পদ্য রদ্দি আবেগ, সস্তা স্বপ্ন পড়ে রক্তে কিসের ঘুম ভাঙানি তবু কিসের অমন যুদ্ধে

ইশতেহার

  মাংশটা পুড়ে গেলেও স্বাদ কিন্তু কমে না, সব্জীর লবণে কিইবা আসে যায়!! ভাতের মাড় গালাতে গিয়ে হাতটা নাহয় আমারই পুড়ুক। আমি টুথপেস্ট মেখে নিতে জানবো। তবু আমাদের সংসারে একলা রাঁধার বিলাসীতা না থাকুক। একলা চলার সামর্থ্য, আলবত জরুরী। তবু জরুরী সব অনভ্যেসের জন্যে থাকুক না, আলাদা একটা খাতা। রোজকার সমস্ত শ্রম আর প্রেমের যৌথ

গেলমান

আসমান ভেঙে পেড়ে আনি তবু মলাটের চাঁদ শুদ্ধি চাঁদোয়া জড়ায়ে জাগুক বিজন তিমির সে বাসনা মিছে, পিছে পিছুটান, অব্রহ্মা রাত বহতা সময় কবিতার খাতা, শাদা, লিপিহীন চোখ ও চিবুকে নোনা বসে যায়, ক্ষয়িষ্ণু বোধ প্রবাহী জীবন পুতুলের চাবি, ছেনাল হৃদয় বেঁচে দিই সস্তা কাগজের সাথে, কাগজের নাম। হে মহাজনম, প্রভু, নটরাজ, ভেল্কী দেখাও! করপুটতলে লোভের

অনুরাধা

হয়তো বা ঘর হবে, ঘরনী, সন্তান-সন্ততি। সুখী? হয়তো বা কালে কালে, তালে তালে, তাও কিছু হবো। শুধু- তোমাকে পাবো না, পাইনি, আজন্মের এ কান্না- তোমাকে হারিয়ে ফেলেছি, আমৃত্যু, এ ব্যাথার বিষ- রয়ে যাবে। রয়ে যাবে। ******** প্রিয় নীল ডানার জীবন, ঝাপটাতে ছেঁড়ে যদি পালকের হেম- ছেড়ে যেও নির্বিষ বাতাসের দাবী, মুছে ফেলো অশুচি আবেগ।

পাখিদের শেষকৃত্য হতে নেই

পাখিটা বাঁচেনি। আজ তার শেষকৃত্যে যাবো। আমাদের ভাঙবেনা লৌকিক তটরেখা, জানি। মধ্যবিত্ত উপকূলে, ক্ষুধার নোঙর ফেলে ভরা জোয়ারের বেলা জলে নেমে যাবে। উচাটন পাল, নামিয়ে ফেলো ভীরু মাল্লার হাত। চিবুকের নোনা মুছে, যত্নে লাগাও গালে গ্লাণির পলেস্তারা। উজানী বৈঠাগুলো, তুলে রাখো নতজানু নাবিক হৃদয়। আমাদের পাখিরাও তাই, সূর্য ডিঙোতে শেখে না। পাখিরা বাঁচেনা। পাখিদের শেষকৃত্য