রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

Archives

একজন গভীরভাবে অচল মানুষ

  তবু কত প্রিয় ছিলো- টাল চাকা, চেইনের জং ধরা ঘড়ঘড় শব্দ। এখনো কানে বাজে- সুতোকাটা রাত্তিরগুলো, চোখে ভাসে, সোডিয়াম সোনালুরা। তারপর… ধুপ করে… “খুব-ভোর” নেমে এলে, পরোটা-ঝুপড়িগুলোতে- আড়মোড়া ভাঙতো সকাল। আমি- চা-দোকানে টুং টাং.. টুং টাং.. ঝিম ভাঙানিয়া শুনে, ফিরতে থাকতাম। আকাশে তখনও ঘোলা ডোরাচাঁদ, আর শহর ভেঙে বুনো ট্রাকগুলো ভাগছে.. ভাগছে.. আর ক্রমশ

হিপোক্রেসি

  মানুষের মৃত্যু এখন আর পোড়ায় না আমাকে। বরং মানুষের পুড়ে যাবার গল্প শুনতে শুনতে বিকেলের নাস্তা সেরে উঠি। মানুষের কান্না, চিৎকার, জ্বরা, জরায়ু ভেঙে বের করে আনা মানুষের সন্তান, তাদের ছোট্ট ছোট্ট শরীরের টুকরো, মানুষের জিঘাংসায় টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে যত অপরাপর মানুষেরা, এই সব, সমস্ত, খুব বেশি স্বাভাবিক, খুব বেশি দৈনন্দিন, এখন। অথচ,

ব্রাত্যি

  ইচ্ছেরা টুপ করে ডুবে যায়। কাঁচালোভ-কাঁচরঙা ক্ষুধা ভেসে থাকে, পুরীষ যেমন। বুঝি, এভাবেই প্রতিটা মানুষ দিনে দিনে দমের পুতুল হয়ে গেছে, যাবে। পুরোনো খতিয়ান ভেঙে ভুঁইফোঁড় স্মৃতি, সাধ, আহ্লাদ গুলো সামনে দাঁড়াবে এসে প্রেতাত্মা অবয়ব নিয়ে। নিজেকে যাবে না চেনা, আয়নার মিথ্যে স্লোগানে।।

বেটার লেইট দ্যান নেভার

  এই দ্যাখো, আমি এসে গেছি! বোধ করি, কিছুটা দেরীতে কিছুটা অনভ্যেস আর অপ্রস্তুত জীবনের চৌকাঠে, যখন দাঁড়িয়ে ভাবছিলে- সমস্ত শুণ্যতা আর সমস্ত ব্যথা- তোমায় ত্রস্ত আর সন্ত্রস্ত রাখবে, তুমি প্রস্ততি নাও, ভীষণ ভীষণ ঝোড়ো অন্ধকারে ঠুনকো ভেলায় একলাপনার বিষন্ন ভুতুড়ে পাল মেলে, সমুদ্দুরে, নেমে যাবার……… -থামো!! আমি চিৎকার করলাম, তোমায় প্রতিধ্বনিত করে। আমি ফিসফিস

অবাঙমানসগোচর

আমি আমার অন্ধকারকে জানি। তাই, আমি যাকে ভালোবাসি- তাকে ভালোবাসতে ভয় পাই। ঠিক তাও নয়-আমি জানি আমার স্পর্শের বিদ্যুতে কতটা আধান, দাহ, অথবা অনম বিষ। তাই, আমি যাকে ভালোবাসি- তাকে ছুঁতে যেয়ে ফিরে আসি কাকচক্ষুজল বেদনার অজুহাত টেনে। আমাতে যে শকুনের বাস তাকে জানি, তার ঠোঁটে বেসামাল ধারের পরখ বাজিয়ে দেখতে গিয়ে, অপরাপর জীবনের অনেক

ঊনমানুষী পোষ্টার

  আমার হাতের কাগজে তোমাদের অস্থিরতার চিঠি আমার উদ্বাস্তু দিনেরা, তার কোন সংলাপে নেই। তোমাদের কীর্ত্তন শেষে, আমার বারান্দা থেকে চড়ুইয়েরা ফিরে যায়, যার যার ঘুলঘুলিতে। জানলা মেলে দাঁড়াবো, তেমন কপাট বাকী নেই। কোথাও আর যাবার থাকে না বলেই, বোধকরি, থেকে যাই- থাকা আর না থাকার মাঝে। *** শীতাতপ সন্ধ্যে পোহালে, কুয়াশা ভিজিয়ে গেলে- অভিলাষী

আহারে জীবন!

  ইদানীং কি জানি হয়েছে,  খুব করে মরে যেতে ইচ্ছে করে! ইচ্ছে করে হেরে যেতে, বিনাশর্ত আত্মসমর্পনের নামে নিজেকে ডুবিয়ে দিতে টুপটাপ চোরাস্রোতে। অথচ, কি অহম-ই না ছিলো আমার “জীবন” উচ্চারণে। অহমের প্লেগে নয়, ক্যান্সারেই বরং ধুকছে সময়। না-হারা মনও, মনে মনে ভাবে- ধুরো, হেরে গেলে কি হয়! ল্যাঠা চুকে যেতো! তবুও গুছিয়ে নেই নোংরা

অবেলার অণু-সংসার

  না জীবন আমাকে কখনো সারপ্রাইজ দিতে হতাশ করেছে, না আমি জীবনকে। উহু, খুব আহামরি কিছু একটা গল্প আমার নেই, যেখান থেকে এমন রগরগে ডায়লগবাজি করা চলে। আমার তবু একটা ভীষণ খটমটে গল্পের খাতা আছে। আমার ছোটবেলাটা  ছিলো সাদামাটা। নাহ, বেশতো রঙিন! আমার প্রথম স্কুলে যাবার যে গল্প, সেটাও অন্যরকম। আমাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না।

দ্য ইনকমপ্লিট সুইসাইড নোট

What if i die today? what if i kill myself now? -মানুষের জাজমেন্টাল মেন্টালিটি কি প্রখর উর্বর সেটা দেখতে পাবো না, এবং ভাইস ভার্সা। কিন্তু আমার দ্যাখা বা না দ্যাখাতে কি আসে যায়? আমি এক্সিকিউশনে যাচ্ছি তখনই, যখন এই সমস্ত ফালতু ব্যাপারে আমার কোন মাথা ব্যাথা থাকছে না। আর সবচে বড় কথা, মাথাটা তো কেজো

ঊনত্রিশের প্রেমপত্র

  তোমায় দিতে পারতাম ততোটা স্বাধীন জীবনে আমৃত্যু সহযোগীতা, যার কিছুটা কাছাকাছি পর্যন্ত তুমি ভাবতে পারো। কিংবা, যেটুকুর পরে নিঃশব্দে তোমাকে হারিয়ে ফেলা যায়। আসলে, মানুষের প্রস্থানে এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে, পুর্বরাগে পুর্ন চুম্বনের প্রতিটা প্রতিশ্রুতি আজ অর্থহীন জানছি। সত্য কেবল মুহুর্তের সাপেক্ষেই সত্য। সময়ের আগল তুলে দিলে- ঠুনকো, আপেক্ষিক। সত্য বলে আদতে কিছু