রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

হিপোক্রেসি

বোধ

 

মানুষের মৃত্যু এখন আর পোড়ায় না আমাকে।
বরং মানুষের পুড়ে যাবার গল্প শুনতে শুনতে বিকেলের নাস্তা সেরে উঠি।
মানুষের কান্না, চিৎকার, জ্বরা,
জরায়ু ভেঙে বের করে আনা মানুষের সন্তান,
তাদের ছোট্ট ছোট্ট শরীরের টুকরো,
মানুষের জিঘাংসায় টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে যত
অপরাপর মানুষেরা,
এই সব, সমস্ত, খুব বেশি স্বাভাবিক, খুব বেশি দৈনন্দিন,
এখন।

অথচ, সৈয়দপুরে রেলের পাটাতনে শিশুদের পা ধরে
আছড়ে মগজ থেঁতলে মারার ঘটনা শুনে
রিকশায় প্রেমিকার পাশে বসে হেচঁকি তুলে কেঁদেছিলাম একদিন।
একদিন, সার্বিয়ার গণহত্যা নিয়ে তাচ্ছিল্য করেছিলো বলে
বন্ধুর গাড়ি থেকে নেমে হাঁটা শুরু করলাম আজিজের সামনে থেকে।
একদিন, কিগালির জাদুঘরটার কথা পড়ে,
যেখানে, একটা ছবি, একটা জুতো বা খেলনা, প্রিয় খাবার বা শখ এর সাথে
লেখা থাকতো, যেভাবে হত্যা করা হয়েছে,
মুখে খাবার নিতে পারিনি গোটা সপ্তাহ!
তারপর, রানাপ্লাজার উদ্ধার অভিজান দেখতে দেখতে ভাত খাই।
এক বাস মৃতশিশুর খবরে মুড়িয়ে কিনে আনি চানাচুর মাখা
পেট্রোল বোমার ছুটিতে অবকাশ কাটাতে যাই উত্তর পাহাড়ে।
হাইওয়ের দুধারে বানভাসি মানুষের তাবু, বাসের গতি শ্লথ করে দিলে
বিরক্ত হই!

-খিদে পেয়েছে, মা বাড়িতে গরু ভুনে অপেক্ষায় আছে!

Facebook Comments