নগরে নতুন কবি এক…
দ্বিধাগ্রস্তের মত
ভীরু পা ফেলেছে সবে-
তার
বুকের নতুন ঘাসের সবুজে-
হাতের মাটির সোঁদা গন্ধে-
আর চোখ ভরা
সূর্যের গনগনে লালে…
আমি স্বপ্নের অঙ্কুর দেখি…
প্রত্যাশার কথা বলছি বন্ধু… শোনো..
এখন দুঃসময়-
এখন শব্দে-ভাষায়-আলোয়-গন্ধে
কেবলই বেনিয়াবৃত্তি,
রক্তের ব্যবসায় বুঁদ বেনিয়া শকুন।
রঙ্গের প্রলোভনে হৃদয় বেঁচো না বন্ধু;
সত্ত্বার আলোটুকু বদলে নিও না নষ্ট নিয়নে-
এখন দুঃসময়-
তেরশত নদী্র মতই ক্রমসংকীর্ণমান মানুষের বুক,
ক্রমসংকীর্ণমান মানু্ষ,
মানুষ-
আর মানুষের মত নেই…
অর্থের স্কেলে শিশুর বৃক্ক থেকে
নারীর প্রেম মাপা শহরের
নোংরা নকল আলোয়-
ভয় হয়, ভুলে যেতে পারো পথ-
আমিওতো ভুলেছি কতো, কে জানে-
হয়তো এখনো; অন্ধ চলেছি ছুটে…
আজ সূর্যের জ্বালা বয়ে বেড়ানো হৃৎপিন্ড চাই না কেউ-
আজ সূর্যের মত জ্বলে ওঠা হৃৎপিন্ড প্রয়োজন…
আজ সূর্যের মত জ্বলে ওঠা চোখের তারা প্রয়োজন…
আজ সূর্যের মত জ্বলে ওঠা তীব্র মনন প্রয়োজন…
অভিঘাতহীন অভিব্যক্তির ঠুনকো টুপির যুবক,
শালিখ-তোতার মত বুলি-সর্বস্ব নির্বোধ কবি,
শোষকের ভাড়া খেটে; স্বাধীনতা বেঁচা যোদ্ধা,
শঠতার পূঁজে মোড়া ইস্পাত-কংক্রীট
আর স্বার্থের দুর্গন্ধে-
তোমাকে অভিবাদন জানাবো না আমি…
এ দুঃসময়ে, এ অন্ধরাতে-
নিষিদ্ধ ধোঁয়ায় বুঁদ যুবকের ভীড়ে
সত্ত্বার সবটা বারুদ একত্র কর- হে কবি
একটা স্ফুলিঙ্গ- টেনে আনো মননের তীক্ষ্ণ কীনারে।
এসো,
একত্র করি আমাদের সমস্ত বারুদ
স্ফুলিঙ্গ হোক আমাদের সুতীব্র বোধ
এসো কাপন ধরাই- আঁধারের প্রতিটি শিরায়
বিস্ফোরণে জীর্ণ হোক জিঞ্জীরের নিষিদ্ধ সন্ধি
আগুনের হলকায় পুড়ে যাক শকুনীর ডানা…
কবি-
এ কেবল তুমি নও
এ নগরমুখী আর সব নওল কবির কাছে
এ আমার তীব্র আকুতি…
(এপ্রিল, ২০১০)