রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

Archives

অসুখ

ইচ্ছের অসুখে মরে গেলে জীবনের পোকা,বোকা বোকা বেঁচে থাকা মানুষের ভীড়বাড়িয়ে কি লাভ! ভেবে, প্রজাপতি ডানাখুলে রেখে, থেমে গেলো একরোখা কিশোরের চোখ! কিছু কি এ পৃথিবীর এলো-গেলো তাতে?? মার্বেল, পাথরের মতঅদ্ভুত স্তব্ধ চোখ,পেয়ালায় চামচের শব্দের ঝিমএকঘেয়ে হয়ে গেলে, চায়ের দোকানীলিকার বদলে দেবে, বিকিকিনিথামবে না, কোন কিছুতেই। শুধু, ইচ্ছের অসুখে মরে যাবে জীবনের পোকা।শুধু, বেড়ে যাবে

বিবর

তোমার ইদানিংকার হাসিমুখ ছবিগুলো খুব চোখে পড়ে।আমার অট্টহাসা পোর্ট্রেট যেমন,তুমিও কি নিঁখুত হাসছো! দৃশ্যের সম্পুরণে ;ছবি কি দাঁড়াতে জানে! নাকি…তারও পিছে কিছু মেঘস্মৃতি সেজে থাকে?আমার মতন… জানি, প্রশ্ন অবান্তর।আগ্রহ অনভিপ্রেত, অনধিকার। কথা ছিলো ভুলে যাবো, ভুলে গেছি, তবুতোমার শাড়ির রংথেকে গেছে চোখে। আচ্ছা, তুমিও কি ভুলে গেছো, ঠিক? নাকি, ভুলে গেছো আমার মতন করে? অযত্ন অচকিতেপায়েল পরিয়ে দেয়া আঙুলের

একটি টিপিক্যাল পুরুষতান্ত্রীক পত্নীশ্লেষী রম্য

সৌখিন সাহিত্যিকের (পুরুষ) জন্য বিয়ে হতে পারে এক ভয়ানক বিপদ। কেন বলছি? কোন আইবুড়ো গাড়লের লেখা, বা লেখার মার্জনের জন্যে কোন কমিটমেন্ট দরকার পড়ে না। বিয়ের আগে যে কোন চোখ, সেই চোখের কাজল থেকে সিঁথির সিঁদুর (সে সিঁথি কুন্তলার কেশের বিভাজন হোক, কি ছাই উরুসন্ধির), রাজনীতি কিংবা বিপ্লব, বরাঙ্গনা থেকে বারাঙ্গনা, যা ইচ্ছা, যাকে ইচ্ছা,

শুভমিতাকে…

অথচ, তোমার আঙুল, ঠোঁট, চোখ আর বুকের ভাঁজ থেকে গন্ধ নিতে নিতে, আমি প্রেমকে জেনেছি।আমার ভেঙে পড়া আকাশের নিচে আমাকে আগলে ধরে কাঁদতে থাকা তোমার ক্ষরণ-আমাকে চিনিয়েছে ভালোবাসা।সেই থেকে আমি ঝর্ণা আর বৃষ্টির মত তোমার চোখ আর চুমুর দিব্যি খেয়ে বর্ষাতি হয়ে যাই, সেই থেকে আমার সকালগুলো ঘাসফুল আরসন্ধ্যাগুলো নীল হতে হতে, ইজেলের রঙিন বিচিত্রায়আমাকে ডুবিয়ে নেয়, প্রিয়তমা।ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত রঙ ঠোঁটে করে, তোমার নোখের চারু

প্রিয় দুঃস্বপ্ন

ইদানিং প্রায়ই একটা দুঃস্বপ্ন দেখি।একটা হুইল চেয়ার। চেয়ারে একটা মানুষ। মানুষটা অন্ধপ্রায়, চলৎশক্তিহীন।মানুষটা আয়নায় তাকালেই আমাকে দেখতে পায়। কিংবা আমিই তাকে দেখি, কেবল আয়নার ওপাশে। মানুষটার ঘোলা ঘোলা স্মৃতিসর্বস্ব চোখগুলোকে, কারো কোন উজ্জ্বল অতীতের সুভ্যেনির মনে হয়। যদিও ওদের ঠিক সেই মতো যত্নে তুলে রাখা যায় নি কিছুতেই। মানুষটার পিঠে ন্যাড়া ডানা। ডানার পালকগুলো পুড়ে

স্খলন

“আমিই ঠিক” “আমিই সত্য” “আমার কি ভুল!!” ভেবে ভেবে মহান মহোত্তম শ্রদ্ধাস্পদেষু মহামনস্বীগন স্বমেহন ক্লান্ত বিকেলে উদ্ধত চাউনি বিলান। বেভুল হাঁটছি পথ, আর ভাবছি ভাবছি ভাবছি… হ্যাঁ, তাইতো, স্খলন কেবলই আমার। মৃদু হেসে ফিরবার পথে, বলি, প্রভু ওদের রক্ষা কোরো। ওরা না জানুক, আমি ঠিক ঠিক জেনেছি তোমায়! ভয় তাই আমারই প্রগাঢ়। অন্ধ হলেই প্রলয়

সমর্পন

অবিচল রাত ঘেমে নেয়ে হলে ভোরকিংবা অশনি আঘাতে ফুরালে ঘোরযে হাতের চাপ সাহস যোগাতো কাঁধেযে পরান ফিরে পরানে পরান বাঁধে-তারে ছেঁড়ে যেতে, ছিঁড়ে যেতে তার পাড়,কে পারে! কিভাবে! যায় কি আদৌ! আর-প্রতিকূলগামী নাওয়ের বৈঠা ভেঙেযে মাঝি উঠেছে দুর্দিন মেখে রেঙে,যে নাবিক জানে জাহাজডোবার জ্বালা,চোখ মাস্তুলে, দিকভুলে দিশাহারা!তার ভ্রান্তিতে, অক্ষমতার পাপে-পুড়ে যাবে যদি জীবনেরা অভিশাপে!স্বপ্ন, সকাল,

আমার মৃত্যু হোক জলপ্রপাত

হেরে যেতে বড় ঘেন্না, তবুওউহ্য রেখেছি উদ্বেগ, মেঘযদিবা হল্লা ওঠে নৈঋতে,বুকে প্রতি-ঝড়, দুদ্দাড় বেগ। টানটান সিনা, চোখ চকমকিআগুনে দৃষ্টি খেলে ফুলকি,শংকা, অশনি থোরা পরোয়ার,চেটেপুটে বাঁচা, এতে ভুল কি! তবু বুকে ভয়, নিয়তির নীতিবোঝা ভার, ব্যধি পেতে আছে ফাঁদ,জানি বেলা যাবে, ফুরাবে অমোঘজীবন, তবুও বাঁচবার সাধচাবে না ফুরাতে। আয়নার সাথেশলা করে গ্লানী, ঘুনে খাওয়া চোখ।হবে যদি

সার্গাজম

মরে যাও, বিভৎস কীট!দগদগে পুঁজ আর মাংসের লোটা!মরে যাও, ঘেন্না ও সংকোচেশ্বাস এটে আসা রাতের শেয়াল।মরে যাও পরাজিত নোংরা কুকুর। মরে যাও, অনীক, অথর্ব,স্বপ্নের কারুখাতা, ছিলো না তোমার,সাহসের ধার, বারুদ স্পর্ধা।এই রেসট্রাকে মৌন পদব্রজী, প্রয়োজন নেই।এই যুদ্ধের দিনে ধ্যানী যোগী অপাংক্তেয়। জীবন বাজারী, তুমি- স্রেফ অপচয়, বুঝছোনা কেন? মরে যাও, নুলো কবি, অপটু চিত্রকর। মরে

মাশুল

  শোধরাতে চেয়েছি অনেক। ছেঁকে ছেঁকে কতবার আলাদা করেছি পলি, প্রেম আর নোনা। তবু জোয়ার এলেই ফের সব ডুবে যায়। সব ধুয়ে নিয়ে যায় রাক্ষুসে ভাটার কাহন। প্রিয় চাঁদ, আমার কি দোষ বলো! আমি স্রেফ, মাটি আর মায়ার পুতুল। প্রিয় চাঁদ, জোলো জোৎস্নার গীতি, মুছে যাক তবে। মাতাল স্রোতের মতো চুলের আঁচল ছুয়ে ফিরে যাক