রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

Archives

ব্রিফিং এর খসড়ায়

বাড়িই আমাতে ফেরে, আমার-ফেরা হয়না কখনো। পিচের গিলাফে থেকে যাই,ধুলোতে, শিশিরে থেকে যাই,থেকে যাই মোড়ে, বাঁকে,নষ্ট ল্যাম্পপোস্টের মতোন- অন্ধকার হয়ে। তবু, জীবন আমাতে বাঁচে। আমি-না বাঁচলেই বা কি! ক্রমে মরে যেতে থাকা মগজেছারপোকা,যন্ত্রণা হয়ে, জীবনেরউদ্ধত কড়াচোখ, বুকের ভেতরে ধরে,তীব্র ভ্রূকুটি হয়ে- রোজ বাঁচি, বেঁচে থাকি। আমার গল্প তাই, একপেশে,খুব সাধারণ! যতোবার, নিয়তি রুখেছে পথ-দেয়ালেরা পথ

অকিঞ্চিৎকর

সুখিতম মানুষটি, অতঃপর, ক্রীতদাস হয়ে গেলো।সবচে’ উঁচোয় ওড়া পাখিটিও সার্কাস দলে,তীরহারা নদীটিতে বাঁধের আবাদ।ব্যক্তিগত আকাশের শব্দহীন ভেঙে পড়া,ও দৈনিক পাতানো সুখের পরিমিত বন্টন শেষে বাজারে বিক্রি হবে যোগ্য পুরুষ, নাম তুলে দাও।পরাজিত যোদ্ধার মৃত্যু বিনে মুক্তি মেলে না। ******* নিঃশর্ত মৃতুর জন্যে কেউ জন্মি নি.. তবু অনেকেই চলে যাব জীবনের খেরোখাতা ভরেশর্তহীন মৃত্যুর ঊর্বর প্রশ্নবোধক

যেদিন তোমার বন্ধ দরজা থেকে ফিরে এলাম, তুমি সত্যভ্রষ্ট হলে!

সকালের মোমরোদ পিঠে ফেলে তুমি চলে গেলে!আমি উদ্যানে, কাঁচা ঘাস চেরা শানবাঁধা পথে, আদরের কার্পাস ছেড়ে আকাশে চাইলাম-তুমি সত্য ভ্রষ্ট হলে। ঝুঁকির স্পর্ধা ছেড়ে নিরাপদ স্লিপিং ব্যাগেতুমি নিজেকে লুকালে, বুঝি, ঘরপোড়া চোখ সিঁদুরে মেঘের ছাপ দেখেছিলো, বিভ্রমযোজনের পায়ে পায়ে বুনেছিল কাঁটা, তুমি সত্যভ্রষ্ট হলে। কড়া নেড়ে নেড়ে- ক্লান্ত আঙুল, ফিরে এলো একলা মুঠিতেডেকে ডেকে থেমে

বোকা মানুষটা

(ছবিটির সত্ত্ব ও কৃতিত্বঃ সুমিত ব্যানার্জী, https://flic.kr/p/2iuig8g ) “আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।জীবনের বিবিধ অত্যাশ্চর্য সফলতার উত্তেজনাঅন্য সবাই বহন করে করুক; আমি প্রয়োজন বোধ করি না :আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষহয়তো এই নবীন শতাব্দীতেনক্ষত্রের নিচে।” উনিশশো চৌত্রিশের, জীবনানন্দ দাশ,

বোকা বনসাই- অনুপক্রমণিকা

রাতেরা কথা বলে, সে কথা শুনতে ইচ্ছে হয় না। আমার আসলে, জোৎস্না হয়ে যাবার কথা ছিলো। তবু, বিকল ইঞ্জিনের ঘড়ঘড় পিস্টনে আটকে গেছি সেই কোন এক ভুতে ধরা সন্ধ্যে থেকে। সেই সন্ধ্যের আবছায়া এখনো বুকের মধ্যে কাবাডি-কাবাডি খেলে। হুট করে কাবাডি খেলার বয়েসও চলে যায়। সন্ধ্যেরা বড় হয়ে ওঠে।জীবন, আনন্দ আর মগজের সমস্ত স্বস্তি চেটে

আলো, তোমাকে…

জুঁই, তুমি ঘুমুচ্ছো পাশের ঘরে। এ ঘরে সারাটা রাত জেগে সকালে অফিস লেটের ভয়ে কফির মগ হাতে আমি ল্যাপটপে। একটু পর তোমার ঘুম ভাঙবে, একটা জ্যান্ত পুতুলের মতো বোজা চোখ আর ফোলাগাল নিয়ে ঢুলুঢুলু করে এই ঘরে এসে আমার জামা ধরে টানতে থাকবে তুমি। আর বেড়ালের বাচ্চার মতো ইই… ইই… করতে থাকবে। আমি গুলুমুলুমুলু করে

যে আমাকে কাম শেখালো

যে আমাকে কাম শেখালো, খামের মতোন নারীর ভাঁজেপরত পরত চিঠির আবেগ, পড়তে দিলো আঁচল ফেলে,নাভির স্বেদে নোনতা জিভে তীব্র মাতাল মধ্য রাতেতৃষ্ণাভাঙা চুমুক হলো, মাঝবয়েসী যোনীর খাঁজে নিষিদ্ধ সব ঘ্রাণের খাতার বর্ণমালা যে বোঝালো, নগ্ন বুকের ওমের ঝাঁঝে, ক্লান্ত চুমু কাঁধের কাছে, শরীর মেলে শরীর পুঁজার মন্ত্রপাঠের দমের ধাঁধা, ছকে ছকে মিলিয়ে দিলো,স্তনের বীণায় সুর

দোসর

আমার হেঁচকি তুলে কান্না করা পুতুল-মনখারাপের দমবন্ধ রাতেওহাসতে জেনো, তুমুল অসংকোচে। আমার শহর কাঁপা অট্টহাসের দোসর-সফল গানের উদযাপনের আলোয়মুছতে শিখো বোকা চোখের কানিখুব অচেনা ছোট্ট পাখির ব্যাথায়। আমায়- জীবন মানে, জীবন ক্যামন হয়,শিখালে যে হাতের মুঠোর মানুষ,মুঠো ছেড়ে যাবার এতো পরেওজানো, আমার ভীষণ কষ্ট হয়!!তোমার জন্যে! ভীষণ কষ্ট হয়!!”

প্রবারণ

বুঝি, ভুল হয়ে গেলো?ঠাউরে পাই না দিক, জোছনারদীপালী ফুরোলে“সকাল” “সকাল” ভাবি, হয়ে এলো বলে।অথচ কেবলি “কালো” আরো গাঢ়ো হয়,কখনো কখনো “রাত” ফুরাবার নয়। বলেনি কি কেউ?ঘাম ও সময় থাকে মুদ্রার খামে।পেশি ও স্নায়ুতে কি হে? ভাতঘুম ঝিম?গুটোনো হাতার নিচে? রঙের তুরুপ? বোকা বুনোহাঁস,শুঁড়িখানা মেলাবেনা দুধের গেলাস।

বিভ্রম

বিষাদে বিরান চোখেচাইলে পারতে হতে সুখ। তবু, চোরাকাঁটা মেয়ে.. আচানক জেগে ওঠোঅপরাধী চুমুর মতন।অচকিতে বেজে ওঠোআনকোরা পায়ের ঘুঙুর। তবু,তোমার চিবুক ছুঁতে বাড়িয়েছি হাত।পোশাকী হাসিরা মুখে ম্লান হয়ে এলেছলছল জল চোখে হঠাৎ প্রপাত,জানি, আমাকে ফিরিয়ে দেবেঠিকানার ভুলে আসাঅনাহূতচিঠির মতন। আমি রাতের চিবুক ছুঁয়ে ফিরে যাই ঘরে।আমি রাতের আঙুল ধরে ফিরে গেছি ঘরে।