রাতেরা কথা বলে, সে কথা শুনতে ইচ্ছে হয় না।
আমার আসলে, জোৎস্না হয়ে যাবার কথা ছিলো। তবু, বিকল ইঞ্জিনের ঘড়ঘড় পিস্টনে আটকে গেছি সেই কোন এক ভুতে ধরা সন্ধ্যে থেকে। সেই সন্ধ্যের আবছায়া এখনো বুকের মধ্যে কাবাডি-কাবাডি খেলে। হুট করে কাবাডি খেলার বয়েসও চলে যায়। সন্ধ্যেরা বড় হয়ে ওঠে।জীবন, আনন্দ আর মগজের সমস্ত স্বস্তি চেটে চেটে খেতে খেতে সন্ধ্যেরা উল্লাস করে, পুষ্ট হয়, ওরা প্রত্যেকে তখন আচানক তীব্র রাতের মতো সিনা টান পালোয়ান ডাকাত।
আমার বরং মেখলা হবার কথা ছিলো। আমার জোৎস্না হবার কথা ছিলো।
আমার তবু কিছুই হওয়া হলো না।
আমি তবু বনসাই হয়ে যাই। আমি তবু আটকে থাকি কালো সাদা স্কেচবুকে।
*************************************
কখনো সখনো, চাপ চাপ বিষণ্ণতা পিছ থেকে এসে আচানক গলা টিপে ধরে। অদ্ভুত সুরেলা বিষাদ, খুব কড়া এলকোহলের মতো, গলা বেয়ে নেমে যায়।
আমি ছাই হতে থাকি।
মরে যেতে ইচ্ছে হয়, ভীষণ ইচ্ছে হয়। নিজের অস্তিত্বটাই যেন এক অসহ্য ভাইরাস। শেষ করে দেয়া যেত যদি!
যায় না…
অতঃপর সব ভুলে, সব গুলে খেয়ে আরেকটি সকাল, আরেকটা ব্যস্তদিন। পলাতক মানুষের বোকা মুখপত্রটি, ছুটতেই থাকে। ছুটতেই থাকে। মরতে পারে না।
*************************************
একটা পাখি ছিলো।
শাদা ডানা, ধুসর মেঘের ছোপ গায়ে। বুকে তুলতুলে নরম পালক।
একটা আকাশ ছিলো, খুব নীল।
একটা শোনপাপড়িওয়ালা ছিলো। জিভে কাগজ দিয়ে যার লটারী জিততে হতো।
৫টাকা করে নোনতা একটা আইসক্রিম ছিল। আইসক্রিমের ভ্যানে টুংটাং ঘন্টা বাঁধা ছিলো।
ভ্যানটা আসতো আকাশটার নিচে যে যে দুপুরগুলোতে ধুলো উড়ে যেতো ধোঁয়ার মতন করে, সেই দুপুর শুরুর আগে।
তুমি ছিলে।
তোমরা ছিলে।
আছো। নেই। আছো।
ভোরের সূর্য দেখিনা অনেক বেলা! কুয়াশা ভেঙে লালশালুতে মোড়ানো বোম্বাই পরোটার গাড়ি, আছে কি শহরে?
পুজোর মেলা আর হবে না কোথাও! প্রসাদের নাড়ুগুলোর দিকে আর কখনোই তাকাবার সাহস পাবো না।
এই শহরটা ছেড়ে যেতে হবে। শহরটা বড় শত্রু হয়ে যাচ্ছে। গানগুলো যেরকম।
এই সমস্ত আগপাশতলাহীন ভাবনার ঝুড়ি কাঁধে রাতের গহ্বরে ডুবে যাই। ঘুমাই আর কি!
নির্জনতার কাছে সিগ্রেট থাকে না। নির্জনতার ভাঁজে আঙুল রাখলে, পুড়ে যায় তবু।
******************************
স্মৃতি বড় বেসামাল বেগতিক জিনিস। না যায় ফেলা, না যায় গেলা, না যায় ধরে রাখা, আবার না যায় উগড়ে দেয়া। এ এক উপশমহীন অসুখের মতো, নির্বিকার কোন ক্ষয়রোগ।
তবু, বিষাদের রাত্তির উপভোগ্য। রাতভোর সকালের আলোয় মিলিয়ে যাওয়া উজ্জ্বল শিশিরের চোখ রাঙানি, এই সমস্ত স্মৃতির স্মৃতিচিহ্নরা।
স্মৃতির বিলাস তবু অভিলাস নয়। অভিসার, কখনো কখনো।
তবু, শীতের সকালগুলো মুখর থাকুক। জীবনের ছেঁড়া ছেঁড়া কাঁথাগুলো উষ্ণতা খুঁজুক অতীতের অক্ষম বাক্সে।
ঘুম কেটে জেগেই উঠুক কোন কোন মাঝরাত্তিরে, কারো কারো ফেলা যাওয়া চিঠি, কারো মোমবাতি, ওড়না, ডায়েরী বা শোলার পুতুল! নীল কাজল ধোয়া চোখের জল মোছা ফেস্যিয়াল টিস্যু, চ্যাপ্টা গোলাপ, চোখের পাপড়ি, বেনামী ফুলের পাতা… করুক ভ্রূকুটি।
এট দ্য এন্ড অফ দ্য ডে, সামহাউ, দ্য বক্স অফ প্যান্ডোরা প্রিভেইলস!!