রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

Archives

সিদ্ধান্ত আর ফলাফল

  সিদ্ধান্ত আর ফলাফল নিয়ে ভাবছিলাম। আসলেই সিদ্ধান্তের উপর কিছু কি যায় আসে? বাংলা মোটরের দিক থেকে সাইকেলে বাড্ডা আসছিলাম। আমার হাতে কয়েকটা অপশন এবং আমি যথারীতি কনফিউজড। আমি কাওরানবাজার থেকে ডানে হাতিরঝিল হয়ে আসতে পারি, আমি ফার্মগেট-মহাখালি-গুলশান ১ হয়ে আসতে পারি, বিজয় সরণী ফ্লাইওভার পেরিয়ে AUST এর সামনে থেকেও ঢুকতে পারি, আমার ইচ্ছা। কাওরান

শৈশবনামা-১ : মণিরামপুর! মণিরামপুর!

  তখন সময়টা ছিলো অ-সময়ের স্পর্শ থেকে অনেক অনেক দূরে।   খুব জোড় ক্লাস ওয়ানে পড়ি। বাসা ছিলো যশোরের মণিরামপুর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে। আর স্কুলটা বাজারের মধ্যে, বাসা থেকে বেশ খানিকটা দূর। যাতায়াত, ভ্যান গাড়ি তে।   ভ্যানগাড়ি আমার কাছে সহজ আর স্বাভাবিক ছিলো। ওদেশে এখনো রিকশার চল পৌঁছেনি। কখনো শহুরে মানুষেরা ভ্যানে চড়তে

জরদগবনামা

দেবশিশু আর পিশাচ যেখানে একত্রবাস করে, সে আমার হৃদয়। আমার হাতে যে ছুরি, সে যেমন পাথর কুঁদে ভাস্কর্য গড়তে চায়, আবার প্রয়োজনে, উষ্ণ পিচ্ছিল রক্তে ভিজে ওঠে। আমার “জীবন” ভালো লাগে, কিন্তু ক্ষুন্নিবৃত্তির জন্যে পোড়া মাংসে আমার লোভ। অথচ, এ নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করার প্রয়োজনও বোধ করিনি কোনদিন। জবাবদিহিতা বড় অবান্তর আতিশয্য। মানুষের পৃথিবীতে জন্ম

এই শহরে বাঁচতে ভীষণ মানা

  ভুল শহরে জন্মেছিলে বেভুল ভুল সময়ের ভাঙছো পাথর, বোকা খাঁচার ভিতর ঝাপটে ডানা তবু মনের ভেতর উড়াল আকাশ পোষো! শেকল আছে, অনেক গরাদ, তালা অনেক বাঁধা, মিথ্যে মিথ্যে বাঁচা স্বপ্ন দেখো স্বপ্ন ভাঙার টানে আর ভুলে যাও, সমর্পণের মানে। তারপরেও সুঁচ তুলেছো সুতোয় বুকের ভিতর নরম সেলাই আঁকো পথের বাঁকে পড়লে পাহাড় ভেঙে মাটির

সুবোধ

  যে মানুষ হারিয়েছে মানুষের ভীড়ে, অন্বেষণের নামে, যে মানুষ শুধু চেনে ক্ষুধার যোগান, যে মানুষ জীবিকারে জীবনের আর নাম জানে, যারে আর ছোঁয় না এ বর্ষার সোঁদা মাটি আগমনী ঘ্রাণ, কে তারে মানুষ বলে! গলাতে দড়ির দাগ, কাঁধে তার, না-দেখা জোয়াল। আমার মতোন…. ********* তারও বুকে ক্ষোভ তবু কে জানে কখন, উগড়াবে পাড়ভাঙা ফেনিল

ই রা ব তী

তোমার গায়ের গন্ধ নেবো হুলুস্থুল তোমার চোখে চাঁদ নামাবো সন্ধ্যে ভোর তোমার বুকে বাঁধ ভেঙে প্রেম করুক ভুল তোমার ঠোঁটে, মাদক জানি, মারণঘোর। তোমার তবু আঙুল মাখা নীল কুয়াশায় তোমার তবু নেই পিছুটান, হিসেব খাতা তোমার নোখই আবেগ ছিঁড়ে দাগ কেটে যায় তোমার জন্যে ফের ফিরে সেই আঁজলা পাতা। তোমার জন্যে একটা জীবন অনিদ্র রাত

হ-য-ব-র-ল ২

  ছেলেটার আরও একটা জীবন ছিলো। সেই জীবনে বন্ধু ছিলো, প্রেম ছিলো, হাসি ছিলো, খেলা ছিলো, ছিলো আরো কত্ত কি। ছেলেটা উড়তে ভালোবাসত, দেয়াল তার অসহ। ছেলেটা সুখী ছিলো, সুখ তার তীব্র অহম। সুখীতম মানুষের দাবী নিয়ে রাত ভর শহর দাপাত। একা একা ছুটে যেতো দেশের একেক প্রান্তে, এ শহরে, ও শহরে। রোমাঞ্চের নেশা ছিলো,

হ-য-ব-র-ল

  একটা খুব ছোট্ট পরিবারের গল্প। পরিবারে মানুষ তিনজন। মা-টা, বাবাটা, আর একটা মাত্র ছেলে। পড়াশুনা বা লেখাপড়া, এইসব “ইত্যাদি”র জন্যে ছেলেটাকে থাকতে হয় অনেক দুরের রাজধানীতে। বাসায় ফিরতে পারে বছরে ক’বার তার ঠিক নেই। তার ঘোরার নেশাও ভীষণ।  কখনো শীত বা গ্রীষ্মের ছুটি ট্যুর মেরে কাটিয়ে দিলে দুই ঈদের ছুটিই শুধু ভরসা থাকে। বাবাটা

শ্রী

  ঘরের পিছনে বর্জ্যের বাক্স ঘেঁটে নোংরা ছড়ানো যেন কাদের স্বভাব? পরিত্যাক্ত বৈধ অন্তর্বাস- মুখে তুলে দাঁতে ছিঁড়ে উল্লাস করা যেন কাদের বৃত্তি? ছুঁচো? কাক? বেওয়ারিশ কুকুর ছানার? মানুষের, তারো চেয়ে বেশী। যেখানে রেখেছি ফুল, যদি কারো শ্রী-কাতর চোখ ভুল করে দেখে বসে নিষেকের ডাক, বৃতি-দল-পাপড়িতে পরাগের কামনা-আগুন!! ভাবি, আমারই তো দোষ!! মানুষের পায়ু ছেনে

হুট করে গল্পটা বদলে গেলো!!

ঠিকমতো সবকিছু ঠিকঠাক ঠাক বুঝে ওঠার আগেই গল্পটা বদলে গেলো!! টেবিলে ছাই উপচে পড়া এশট্রে, ফ্রিজে বাহারী পানীয়ের বোতল, শেলফ উপচে পড়া বইয়ের স্তুপ, আর তাই নিয়ে এক জংগল ঘরে আমার বসত বাঁধার ফ্যান্টাসী ছিলো। স্বোপার্জিত নিঃসঙ্গতার মেলানকলি যেচেই এঁকেছি রোজ। অদ্ভুত বিশ্রী বিষন্নতার কাছে আত্মা বন্ধক রেখে অন্ধকার বিছানায় ছিলো দিনাতিপাত। তারপর, একদিন, হঠাৎ