রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

জরদগবনামা

দৈনন্দিন
বোধ

দেবশিশু আর পিশাচ যেখানে একত্রবাস করে, সে আমার হৃদয়। আমার হাতে যে ছুরি, সে যেমন পাথর কুঁদে ভাস্কর্য গড়তে চায়, আবার প্রয়োজনে, উষ্ণ পিচ্ছিল রক্তে ভিজে ওঠে। আমার “জীবন” ভালো লাগে, কিন্তু ক্ষুন্নিবৃত্তির জন্যে পোড়া মাংসে আমার লোভ। অথচ, এ নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করার প্রয়োজনও বোধ করিনি কোনদিন।

জবাবদিহিতা বড় অবান্তর আতিশয্য।

মানুষের পৃথিবীতে জন্ম আমাকে মানুষ করেছে। আমার হৃদয় আমাকে শিখিয়েছিলো যোদ্ধা ও প্রেমিকের পাঠ। ভীরুতা আমাকে বলেছে, কিভাবে পালাতে হয়। তারপর দৌড়ে দৌড়ে ক্লান্ত, ছিন্ন হয়ে কোন এক কানা গলিতে নিজেই নিজের মুখোমুখি হই, আমি আচানক জেনে ফেলি, সবই ভুল, সবই মিথ্যে।

কারণ সত্য মাত্রেই আপেক্ষিক, ধ্রুব কেবল একটি শব্দ, ধ্রুব কেবলই কোন একটি তারার মানুষের দেয়া নাম।

আমার জিভ আমাকে লোভ শিখিয়েছে, আমার শরীর বলেছে ক্ষুধা কেমন বিভৎস আর নোংরা হতে পারে। আবার, মনন তাকেও সাজিয়ে ফেলেছে কতো অদ্ভুত আর সুন্দর আঁকে!

আমি মুসাফির হয়ে উঠি। অভিযাত্রিক চোখ মানুষের পৃথিবীতে হাঁটু মুড়ে ভুলের দায় শুধে চলে নিত্যকার ভুলে, আরও ভুলে।

উন্মোচনের সুখে বার বার নিজের মোড়ক খুলে নিজেকে দেখতে হয়, দেখে চমকে উঠতে হয়।

মানুষ মাত্রেই খুনি। কেউ ছুরিটা সামনে থেকে মারে, কেউ পিছন থেকে। মানুষ মাত্রেই যোদ্ধা। কেউ লড়ে, কেউ পালায়, আর পালাতেই থাকে।

যে জীবনে যুদ্ধ নেই, সে জীবন পাতানো খেলা। কেউ কেউ পাতানো পুতুল। নিঃসাড়, ঠায়, শান্ত, অথচ জীবন্ত।

বড় আশ্চর্য এই মানবজন্ম!

Facebook Comments