রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

একটি টিপিক্যাল পুরুষতান্ত্রীক পত্নীশ্লেষী রম্য

দৈনন্দিন

সৌখিন সাহিত্যিকের (পুরুষ) জন্য বিয়ে হতে পারে এক ভয়ানক বিপদ।

কেন বলছি?

কোন আইবুড়ো গাড়লের লেখা, বা লেখার মার্জনের জন্যে কোন কমিটমেন্ট দরকার পড়ে না। বিয়ের আগে যে কোন চোখ, সেই চোখের কাজল থেকে সিঁথির সিঁদুর (সে সিঁথি কুন্তলার কেশের বিভাজন হোক, কি ছাই উরুসন্ধির), রাজনীতি কিংবা বিপ্লব, বরাঙ্গনা থেকে বারাঙ্গনা, যা ইচ্ছা, যাকে ইচ্ছা, তা বা তাকে নিয়ে অসংকোচে কলম ছোঁড়া চলে। কিন্তু, বিয়ের পর? লোকে কি ভাববে, ইন-ল’স কি ভাববে, বুড়ো বয়েসে বড় হওয়া বাচ্চারা এনিয়ে গাল দেবে কি দেবে না, আমাদের পাতি-বিপ্লবীর জন্যে সব থোড়া-পরোয়ার হলেও, মহা(বউ)রাণী যদি কোনভাবে, কোন কু-কালে-চক্রে-পাকে, তাকে এই সামান্য চুল পরিমাণ ভুল বুঝে বসেন- সেই ভাবনা, তার নিরামিষ গোবেচারা পাতি-সাহিত্যে রীতিমতো ভীতিকর আতংক হয়ে গেড়ে বসে। সে আতংকের মাগুর মাছ ডোবানালার শৌখিন সাহিত্যিকের চুনোপুঁটি সৃষ্টিশীলতাকে ঝাড়েবংশে খেয়ে দেয়ে হেগে বরং আগাছার পুষ্টিসাধন করে।

অজস্র অতি-প্রতিশ্রুতিশীল, উদ্যমী, বিপ্লবী, ভাঙচুরে, সমাজ ওলটানো, সংস্কার ক্যালানো কলম-হারকিউলিস আর কাগুজে একিলিসরা তাই স্রেফ একটা সিগনেচার আর ক’টা কবুল (ধর্মান্তরে কিছু “আই ডু” বা “সাত পাক”) এর কুহকে পরে প্রতিনিয়তই মেনিমাছের মিনি পোনা বনে যাচ্ছেন।

ব্যাখ্যা চাই? আচ্ছা!


হতে পারে না, ক্বচিৎ আবেগে (ভাবাবেগ না কামাবেগ, তা বরং অনুচ্চই থাক) স্বামীপ্রবর হয়তো কোন লেখায় কল্পিত প্রেয়সীর ফর্সা স্তনের কমলা বৃন্তে চুমু খেতে চাইলেন। সে লেখা তার শ্যামলা স্তনে খয়েরী বৃন্তধারী স্ত্রীর চোখে পড়লে কি হতে পারে সে ধারণা ধারণের চেষ্টা না করাই শ্রেয়। আবার, বৃন্তে বৃন্তে মিলে গেলেও কুসুমিত আহ্লাদের পরিবর্তে স্ত্রীকে বরং জনারণ্যে বেয়াব্রু করবার অপবাদ বলুন, আছে কোন মত, যে ক্ষমার্হ?

কিংবা, কবি তীব্র বিরহে জর্জর প্রেমিকের চোখে করে প্রিয়তম বিগতার ( বিগতা-টি কবির নাকি, কবি-কল্পিত বিরহী প্রেমিকের, দয়া করে জানতে চাইবেন না ) শাড়ির রঙ দেখতে চাইলেন! লিখে বসলেন, “কথা ছিলো ভুলে যাবো, ভুলে গেছি, তবু, তোমার শাড়ির রঙ থেকে গেছে চোখে”।
কল্পনা করুন, চেয়ারের পিছনে চুপি চুপি আহ্লাদিত স্ত্রী এসে দাঁড়িয়ে গেছেন। এবার বলুন তো, পরের লাইনটির জন্য কবির কলম নাকি পুর্বের লাইনটির জন্য কবির “কল্লা”, টেবিলে কোনটি আগে পড়বে?

কি যে লেখা যাবে, কতোখানি, আধখেঁচড়া লেখক সে মাত্রাজ্ঞানে কোনদিনও স্থিত হতে পারে কি পারে না, কে জানে। তবে, নিশ্চিতভাবে, তার কলমের চর্বিত পুচ্ছ বিকৃত থেকে বিকৃততর হতে থাকে, থাকবে।

[ডিসক্লেইমারঃ লেখক যদিও একবছর মাত্র হইয়াছে বিবাহ করিয়াছেন, তদুপরি, এই নিবন্ধের সারবস্তু তাঁহার উত্তপ্ত উর্বর মস্তিস্কের বিচিত্র সৃষ্টিশীলতার পরিচায়ক এবং ইহার সহিত তাঁহার প্রায়োগিক জীবন ও দিনাচারের কোনবিধ দুরতম সংযোগও অবর্তমান। এ দুইয়ের মধ্যে কোনরূপ সম্বন্ধ কল্পনা পাঠকের অতি নিম্নরূচি এবং ততোধিক নিম্ন ও ঘৃণ্য মানসিকতার পরিচায়ক হইলেও হইতে পারে!]

পুনশ্চঃ সৌখিন সাহিত্যিক(নারী) দিগকে বঞ্চিত না করিয়া “একটি টিপিক্যাল নারীবাদী স্বামী-সংহারী রম্য” আসিতেছে।

Facebook Comments