রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

রুবাইদ মেহেদী

হুট করে গল্পটা বদলে গেলো!!

দৈনন্দিন

ঠিকমতো সবকিছু ঠিকঠাক ঠাক বুঝে ওঠার আগেই গল্পটা বদলে গেলো!!

টেবিলে ছাই উপচে পড়া এশট্রে, ফ্রিজে বাহারী পানীয়ের বোতল, শেলফ উপচে পড়া বইয়ের স্তুপ, আর তাই নিয়ে এক জংগল ঘরে আমার বসত বাঁধার ফ্যান্টাসী ছিলো। স্বোপার্জিত নিঃসঙ্গতার মেলানকলি যেচেই এঁকেছি রোজ। অদ্ভুত বিশ্রী বিষন্নতার কাছে আত্মা বন্ধক রেখে অন্ধকার বিছানায় ছিলো দিনাতিপাত।

তারপর, একদিন, হঠাৎ বৃষ্টি এলো। সে কি ভীষন বৃষ্টি!

আর ওমনি, গল্পটা বদলে গেলো!!

আমার কিচ্ছুটি দোষ নেই! ও একটা ম্যাজিশিয়ান!! আমার ফোনের গায়ে একটা টিপ সেঁটে দিয়েছিলো মাঝে। কদিন পর আবার যখন দেখা, শুধালে, টিপটা কই? আমি তো জিভে কামড়! সেদিন বেশ ঘষামাজা করে সাবান শ্যাম্পু সমেত চান করে বেরিয়েছিলাম। আর ও কিনা ধুম করে আমার কানের মধ্যে থেকে ধুম করে হারানো টিপটা বের করে আনলে!!
আমার প্রেমে না পড়াটা অন্যায় হয়ে যায় বই কি!!

শেষ বিকেল। অফিস থেকে ফিরছিলাম। পাশাপাশি অফিস কিনা, বাসস্টপ পর্যন্ত হাঁটার ছুঁতোয় গল্প কিংবা গল্পের ছুঁতোয় হাঁটা। এক বয়েসী ভদ্রমহিলাও হেঁটেযাচ্ছিলেন, কোনমতে একটা খুব ভারী ব্যাগ হেঁচড়ে টেনে নিয়ে।
আমার পাশের মানুষটা হুট করে ছুট দিয়ে তার ব্যাগের আরেকটা হাতল ধরে টানাটানি শুরু করলে!!
প্রেমে না পড়াটা আমার বড্ড অন্যায় হয়ে যায় বই কি!!

বৃষ্টিটা তখনো থামেনি! রিকশাও।
কিন্তু, কথার মধ্যে হঠাৎ থেমে আমিই জিজ্ঞেস করলুম- আচ্ছা, কি মনে হয়, এই যে আমার মতোন ভাদাইম্মা, ব্যারাইম্মা, নুন আনতে পান্তা ফুরানো মানুষের সাথে, জীবনের বাকীটা কি কাটানো যায়!!
-“হ্যাঁ, যায়! খুব ভালো ভাবেই যায়!” উত্তর করলে।
বললুম- আচ্ছা!

আর ওমনি, গল্পটা বদলে গেলো!!

লাইফ, ইনডিড, ইজ আ বক্স অফ চকোলেটস!!

Facebook Comments