কথা হবে সোজাসাপ্টা। জগতে মানুষ আছে দুই ধরণের। ১. যারা চিংড়িপিঠা খেয়েছে আর ২. যারা খায়নি।
বলছিলাম চিংড়িপিঠার কথা। এটা বরিশাল অঞ্চলের একটা খাবার, ভাতের সাথে খেতে হয়। এর স্বাদ সম্পর্কে একটা কথাই বলতে পারি, এই মহাজগতে এই মানবজন্মে এর মতো স্বাদু জিনিস আমি খুব কমই চেখেছি 😀 যা যা লাগবেঃ
- দুর্মা নারকেল বাটা (বুড়ো ডাব, কচি নারকেলের মাঝামাঝি বস্তু। সাঁস টা শুরুৎ করে খাওয়া যায় না, কুঁড়ানি দিয়েও কোঁড়ানো যায় না, এমন )
- চিংড়ি মাছ বাটা
- আদা বাটা
- পেয়াজ বাটা
- রসুন বাটা
- সয়াবিন তেল
- লবন
- চিনি
- হলুদের গুড়া
- মরিচের গুড়া
- কলা পাতা
সমান পরিমান নারকেল আর চিংড়ি বাটার সাথে সামান্য করে আদা, রসুন, আর পেঁয়াজ বাটা মাখিয়ে নিতে হবে। সাথে হলুদেরগুঁড়ো আর মরিচের গুড়ো, লবণ আর কিছুটা চিনি। বাটা মশলাগুলোর পরিমাণ এরকম হবে যাতে করে মশলার গন্ধ নারকেল-চিংড়ির ফ্লেভারকে ছাপিয়ে না যায়। ধরেন, এক কাপ চিংড়ি বাটা আর এক কাপ নারকেল বাটার সাথে এক চামচ করে পেয়াজ বাটা, আধা চামচ আদা রসুন।

এবার কলাপাতা প্রয়োজন মতো কেটে নিয়ে ভিতরের পিঠে তেল ব্রাশ করতে হবে। হাতে করেও মাখিয়ে নেয়া যায়। কলা পাতার উপরে মিশ্রনটি বসিয়ে আরেকটুকরা পাতায় তেল মাখিয়ে একই ভাবে উপর থেকে ঢেকে দিতে হবে।


এবার চুলায় বসাতে হবে। এই প্রসেসটা কয়েকভাবেই করা যায়। রাইসকুকার থাকলে স্টীমে দেয়া যেতে পারে। আবার প্যান জাতীয় কিছু হলে মাটির চুলায় , গ্যাসের চুলায় কিংবা ইলেক্ট্রিক হিটারে অল্প বা মাঝারী আঁচে দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। কতক্ষণ রাখবেন সেটা আপনার হিসেব। সমস্যা হলো, খুলে চেক করতে পারবেন না বারবার। স্টীমে দিলে অবশ্য পোড় লাগার ঝুঁকি কমে যায়। হাল্কা মাঝারী আঁচে ৩০-৩৫ মিনিট যথেষ্ট। আঁচ খুব বেশি হলে বাইরে পুড়ে যাবে ভিতরটা কাঁচা থাকবে। এক পাশ হয়ে গেলে তুলে এনে উলটে নতুন পাতায় করে আবার চুলায় বা স্টিমে দিতে হবে। এই পাশটাও হয়ে গেলে তৈরি হয়ে গেলো চিংড়ি পিঠা।স্টিমে রান্না করলে হয়ে যাবার পর কিছুক্ষণ দুই পিঠই চুলায় দমে রাখতে হবে। হাল্কা একটু পোড়া পোড়া না হলে কলাপাতার ফ্লেভারটা যে আসবে না।
কেকের মতন টুকরো করে কেটে গরম ভাতে মাখিয়ে গোগ্রাসে পেটপুঁজার পাট চুকান।

স্টীমে করার পর কিছুটা এমন দেখতে হয়। তুলে নিয়ে গ্যাসের চুলায় দমে রাখতে পারেন (লোহার তাওয়া গরম করে চুলা নিভিয়ে তার উপরে ঢেকে রেখে দেয়া আর কি) পরের ছবিটার মতো পোড়া ভাব টা আনার জন্যে।

রেডি টু গাপাস 😀 😀 😀
[ছবির হাতজোড়া আমার আম্মাজানের। রেসিপি কৃতজ্ঞতাঃ আম্মাজান :D]