রুবাইদ মেহেদী

নিজেকে যায় না চেনা, আয়নার মিথ্যে শ্লোগানে...

ফেরী এবং নাগরিক মাহুতেরা

দৈনন্দিন

ফেরিঘাটগুলোর একটা আলাদা ঘ্রাণ আছে। ছোট ছোট নদীগুলোর আলে রাস্তা থেমে দম নেয়। হলুদ হলুদ পিচ্চি ফেরিগুলো বুক মেশায় পলকা পল্টুনে। তখন এলুমিনিয়ামের দড়িরা এসে যে বেঁটে পিলার গুলোকে কচ্ছপ কামড়ে আঁকড়ে ধরে, তার উপরে বসে ময়লারঙা চা’কাপে ঠোঁট ছোঁয়াতেই ঘ্রাণটা টের পাওয়া যায়। হঠাৎ ঝড় উঠতে যাবে এমন কোন শেষ বিকেলে, ধুলোরা হাওয়ায় গলাগলি গোত্তা খেতে রইলে, সেই ঘ্রাণ ছোঁয়া যায়। সকাল সন্ধ্যে ঘাটে পেঁয়াজু ভাজা লোকটা হয়তো জানে না, সিঙ্গারাওয়ালা জানে না, সারেং বা মাস্টার, তারা?

অথচ, বিজয়সরণীর সিগন্যালে কোনদিনও রূপগঞ্জ ফেরিঘাটের ঘ্রাণ পাওয়া যাবে না, আমি জানি। জাহাজঘাটার ইস্পাতকাটা গুনগুন শোনা যাবে না, যদিও, শহরে চাঁদা তুলে বেড়াচ্ছে যে হাতি আর তার মাহুত, আমি নিজেই দেখলাম, ঠিক একটা বছর আগে- ওরা ওই ফেরী পেরিয়েই তো, নাকি নদী সাঁতরে, এই শহরে এলো।

শহরগামী ফেরি বা সেতুর মুখে টোলঘর থাকে। সে টোলঘরে ওদের জন্যে কোন রসিদ থাকে না।

সিগ্রেট উড়ে যায়। মোড়ে মোড়ে ভ্যানগাড়ি যতই ডাবের আড়ত মেলে বসুক, বিজয়সরনীর সিগন্যাল তবু কোনদিনো রুপগঞ্জের ফেরিঘাট হবে না। এইখানিঅভিমান কি আমার মরে যেতে চাইবার জন্যে অনেক, অনেক নয়?

রূপগঞ্জ, দড়াটানা, গাবখান, পোলেরহাটের মুখ, সব সেলাই হয়ে যাবে মসৃণ সেতুর নিপুন বুননে।

নদীরা নারী হয়ে ওঠে। সে নারীর ঠোঁটে ও জঠরে লোভের সেলাই। তারপর বিক্রি হয়ে যায় বায়নামুল্যে।

মরে যাবার ইচ্ছেরা যেমন বিক্রি হয়ে যায়।

//ছবিঃ রূপগঞ্জ ফেরিঘাট, ২৬ মার্চ, ২০১৬

Facebook Comments

1 Comments on “ফেরী এবং নাগরিক মাহুতেরা”