যারা মরে গেছে, বড় ভয়ে আছে তারা
যারা বেঁচে আছে, বেঁচে থাকা মানুষেরা
তারা আজ সার সার মৃতদেহ স্রেফ!
মড়ক ও মারীর মহাযজ্ঞের বেলা আজ
শিকারীর চোখে চোখ রেখেছে সন্ত্রস্ত শিকার..
ওদিকে, জনতা ও জীবনের নামে গার্গল করছে দুরনিয়ন্ত্রিত বুদ্ধিজীবি
ক্লাসরুমে লোল ফেলছে রাজনৈতিক শিকারী কুকুর
থিতানো রাত্রি, ঘুমঘুম পিচ- বিষিয়েছে নেশার্দ্র নেকড়ের পেচ্ছাপ
সিফিলিসের মড়ক ছড়াচ্ছে জিহ্বা-সর্বস্ব দেশপ্রেমিক বেশ্যা
এসেম্বলি ভরে গেছে তাগড়া ষাঁড় ও বলদে
শেরে বাংলা নগর এখন স্মরণকালের সফলতম শুয়োরের খোঁয়াড়
বাপ, দুলোভাই কিংবা ঈশ্বরের নামে চিঁ চিঁ করছে শুয়োরের নধর ছানা।
পল্টন বা ধানমন্ডির ঈন্দ্রালয়ে, গুলশানের দেবীকুঞ্জে
রতিক্লান্ত দেবতার পিচ্ছিল বীর্যে
ভেসে যাচ্ছে জ্যান্ত মড়াগুলো।
মাটি ও মাকে ধর্ষণে উদ্যত আমলাতান্ত্রিক শিশ্ন
কর্পোরেট হায়েনার নিয়ন-জ্বলা জৌলুসে চোখ
আমাদের চতুর্পাশে-
ছিড়ে খাচ্ছে শরীর, মাংস ও পুঁজ,
পাজড়ার শেষ হাড়টা নিয়েও কি বিভৎস উল্লাস!
ছিঁড়ে নিয়ে গেছে চোখের পাতাও, বুজতে পারি না চোখ।
রাত বাড়ছে-
স্বল্পবসনার টানটান শরীরে ঢিলে হয় সুতোর বাঁধুনী
স্বাধীনতা, এখন এক আন্তর্জাতিক পতিতা
সংবিধান, কোন সস্তা চটির নাম
বেচে বেচে ভরে উঠছে আমুদের মদের গেলাস।
চলছে সার্কাস-
সহজ মুনাফার মুলো ঝুলছে তো ঝুলছেই।
নাকাল নির্বোধ দেউলিয়াগুলোর জন্য
উদ্বাস্তু শিবির খুলেছে হাড় বেচা কসাই
লোভী জিভে পুনর্বার চেটে নিচ্ছে নোংরা ঠোঁট।
নাটক ঝিমিয়ে গেছে-
পালা করে চওড়া বা মলিন হচ্ছে
দু’নটীর কারুকাজ হাসি।
একঘেয়ে নাচে বিরক্ত নটরাজ
চাইলেন কিছু মশলার আমেজ ।
অমনি,
কাঁটাতারে দোল খেলো ফেলানি,
চলে গেল সোনাবরু,
রথখোলার পসার বাড়ালেন আছিয়া বেগম
আত্মজা-কন্যা সমেত।
সীমান্তজোড়া মানচিত্র আঁকল স্বদেশীর খুন
বখাটের ছুরিতে শিরোনাম হলেন জিন্নাত স্যার
জলপাই পোশাকের নীচে বেড়ে উঠল অশুভ ফিসফাস
ক্রমশ ওজন হারাল মধ্যবিত্তের ভাতের হাঁড়ি
সুশীল ভেংচি কাটল লিমনের কাটা পা, কাদেরের থ্যাঁতলানো শরীর।
এখন
নদীতে ভেসে ওঠে নিরুদ্দেশ মানুষ।
রূপকথা হয়ে ওঠে হরর থ্রিলার।
কোটি মৃত জনমানুষের ভাগাড়ে
তবু গুঞ্জন শুনি-
ওরা ভুলে গেছে আমাদের।
ওরা ভুলে গেছে-
এই মৃত আমাদের জ্যান্ত শরীর ভেঙ্গে
গলে যাওয়া মাংসে, নষ্ট সময়ে
পঁচে যাওয়া মগজের লোপাট বুননে
প্রেতাত্মা জাগাতে প্রয়োজন হবে না কোন প্রেতসাধনার।
ওরা ভুলে গেছে, কালোজাদু
ওরা ভুলে গেছে, কালোজাদু
প্রয়োজনে আমরাও শিখে নিতে জানি।
ওরা ভুলে গেছে,
ওদের নাটাই ছেড়ে
আমরা মুঠোয় রাখি
ক্রান্তির ভ্রূণ।
মানুষ খোঁয়াড়ে ভরে শুয়োর পেলেছে,
শুয়োর কোথায় কবে পেলেছে মানুষ??
############################################
পুনশ্চঃ
ফেলানীঃ সীমানা পেরোনোর সময় বিএসএফ এর গুলিতে নিহত যে কিশোরী ঝুলে ছিলো কাঁটাতারে।
সোনাবরুঃ ক্লাস ফোর পড়ুয়া বরগুনার একটি মেয়ে, গলায় ফাঁস দিয়েছিলো, ভাত না পাবার অভিমানে। সেদিনটা তার জন্মদিন ছিলো।
আছিয়া বেগমঃ একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী। স্বাধীনতার পর তিন প্রজন্ম ধরে রথখোলার পতিতা পল্লী ছাড়া আর কোথাও ঠঁই পান নি।
জিন্নাত স্যারঃ জিন্নাত আলী ছিলেন বরিশালের একজন স্কুল শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা। মেয়েদের উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বখাটের ছুরিতে নিহত হন।
মেজর জিয়াঃ সেনাবাহিনী থেকে পদচ্যুত এবং এখনো মোস্ট ওয়ান্টেড একজন জঙ্গী মাস্টারমাইন্ড।
লিমনঃ বরগুনার এই ছেলেটি র্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে একটি পা হারান। পরবর্তী কয়েক বছর “রাষ্ট্র বনাম লিমন” এরকমই একটা পরিস্থিতির ভিতর দিয়ে যান। একটা সময়ে লিমনের উপর থেকে র্যাব সমস্ত অভিযোগ তুলে নেয়।
কাদেরঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন এবং অনুপ্রাণ বিভাগের শিক্ষার্থী। পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে ছিনতাই কারী হিসেবে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা শাস্তির মুখোমুখী হন।
Facebook Comments