সিদ্ধান্ত আর ফলাফল নিয়ে ভাবছিলাম। আসলেই সিদ্ধান্তের উপর কিছু কি যায় আসে?
বাংলা মোটরের দিক থেকে সাইকেলে বাড্ডা আসছিলাম। আমার হাতে কয়েকটা অপশন এবং আমি যথারীতি কনফিউজড।
আমি কাওরানবাজার থেকে ডানে হাতিরঝিল হয়ে আসতে পারি, আমি ফার্মগেট-মহাখালি-গুলশান ১ হয়ে আসতে পারি, বিজয় সরণী ফ্লাইওভার পেরিয়ে AUST এর সামনে থেকেও ঢুকতে পারি, আমার ইচ্ছা।
কাওরান বাজার সিগনালে সার্ক ফোয়ারার কাছে এসে মনে হলো, আমি যদি সোজা যাই, ফার্মগেট পেরোনোর পরে একটা সিএনজি আমায় পিছন থেকে ধাক্কা দিতেই পারে, আমি উড়ে গিয়ে একটা পিকাপ এর সামনে গিয়ে পড়তেই পারি! একই রকম ঘটনা হতে পারে হাতির ঝিলেও।
নিরাপদে বাসায় পৌছুলে কখন কোথায় কোন বাঁকটা নিয়েছিলাম, কোথায় অপ্রয়োজনে রিস্কি ব্রেক কষে স্কিড করেছিলাম, কোন কিছুই ভাবনায় থাকবে না।
অথচ, আমি যদি বিজয় সরণি হয়ে যেতাম আর দুর্ঘটনাটা হতো, আমার মনের মধ্যে কি থাকতোনা- ইস, যদি সার্ক ফোয়ারা থেকে ডানে যেতাম!!
সিদ্ধান্ত নয়, মুখ্য ফলাফল। ফলাফল নির্ধারণ করে আমার ইফোর্ট, আমার অ্যাকশন। আমার ভুল করা বা না করা, মনোযোগ আর ধৈর্য্য রাখা বা হারানো।
আমি যে পথেই যাই, আমার দক্ষতা, চেষ্টা, আর কিঞ্চিত ভাগ্য (ব্রেক ফেল করা বাস গায়ে উঠে এলে আর কি করার) আমাকে গন্তব্যে নিয়ে যাবে।
আমি কোন পথে যাচ্ছি, মুখ্য নয়। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছুতে পারছি তো?
গন্তব্যে না হয় পৌঁছুনো গেলো, আমি যাত্রাটা কতোখানি উপভোগ করলাম?
আমার এই যাত্রা উপভোগের কতোখানি গুরুত্ব আছে আমার কাছে?
আমি কি চাই? কাকে চাই? কতোখানি চাই?
পৃথিবী বড্ড বেশি আপেক্ষিক!!
(মার্চ ৩১, ২০১৮)