কব্জা, কল আর খল খেয়ালীর উল্লাস ভরা শহরে জ্বালা আর জ্বালানীর হররোজ বিকিকিনি, সেইই স্বাভাবিক। ফুল বা মুকুলের, হুম, দু’কড়ি দাম হয়তো আছে, কিন্তু আবেদন? সে কেবল রাজশ্রীর!
চির যৌবনা, চির আবেদনময়ী রাজশ্রী, এই শহরে, এই দেশে, আজকের এই পৃথিবীতে। মানুষের মাথা তাই নুয়ে নুয়ে ছুঁয়ে যায় ঈশ্বরী-অবতার-দেবী পা।
রোজকার ছাপোষা এই মিস্তিরিও তাই কবি হতে চেয়ে কুলাঙ্গার হয়ে যাবে? মানুষ থেকে মোষ। বুকের ভেতরে যে হৃদয়টা আছে, হিসেবী স্বভাব পারলে তাকেও হর্সপাওয়ারে মেপে নেয়।
মানতে পারি না।
সন্তানের পৃথিবীতে আমি চাইতাম, পিতা হবেন প্রথম দার্শনিক, প্রেমিকা, সহযোদ্ধার সমার্থ। হতে পারে আমি বোকার স্বর্গ ভেঙে উঠে আসা পিঁপড়েখোর এন্টিলোপের সমান মগজ ওয়ালা জোড়া হাত-পা’র শরীর। তবু আমার চোখ যে স্বপ্ন দ্যাখে তার কোন শিশু-বৃদ্ধ শ্রেণীভেদ হয় না। “বাতুলতা” বলে খারিজ হয়ে যাই, তবু ফিরে ফিরে আসি।
আমার ভেতরেও ঈশ্বর আছে, আছে শয়তান। ক্ষুধা আর ক্ষোভের আড়ালে আমিও প্রেমিক, তবু…
আমার স্বপ্ন অর্থমূল্যের নিলামে হেরে যায়, মানুষের চোখের ক্ষুধা গিলে খায় আমার প্রেম।
কানে বাজে, “দৌঁড়াও ঘোড়া, বাজী তো জিততেই হবে”। সহিসের নয়, এ স্বর আমার পিতার।
পরাজিত সৈন্যের কোন নাম থাকে না।
আমার কোন নাম নাম নেই।
“তবু, কবিতা হারিয়ে গেলে…?
জীবন না পেলে জীবনের তৃষা? আমার কবিতা-নারী?
ঘুণপোকা চুপে খেয়ে গেলে হাতে, হাতের আলিঙ্গন?
ক্ষুধা মরে যায়, ক্ষুধা মরে যায়, পাতা পড়ে থাকে সাদা
নদী জানে নাই- কি মানে ভাঙনে? কিছুতে মেলে না ধাঁধা।
শহর বোঝেনি মানুষের দাবী, মানুষও বোঝেনা তাই।
শুধু বুঝলাম, মুঠো আছে, নেই মুঠোতে স্বপ্ন ‘রাই।
আমাদের নয় এজন্মকাল, অন্ধ ভ্রান্ত বেলা,
আমাদের নয় শালিখ সকাল, মিহি সন্ধ্যার খেলা,
মেঘাতু নিহিরা, নীল প্রজাপতি, ডানা ভাঙা প্রিয় পাখি,
শ্রাবণের রোদে, ফিকে হয়ে যেও, ফিকে হয়ে যেও, সোনা।”
//অনুস্বর // অগাস্ট ৭, ২০১৬